ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বে আসতে মেলাতে হবে যেসব সমীকরণ

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৮ | প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৭

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীরা লবিং-তদবিরে দৌঁড়াচ্ছেন। বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের জাহির করছেন। ব্যানার-পোস্টারে নিজেদের ছবি সাঁটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনসহ দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।

দুই বছর পরপর নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের অভিষেক হওয়ার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘ ৪ বছরেও হয়ে ওঠেনি উপদেশের অন্যতম বৃহত্তম এ ছাত্রসংগঠনের সম্মেলন। এ নিয়ে সংগঠনটির একাংশের ক্ষোভও বারংবার সামনে এসেছে। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের ঘোষণায় নেতাকর্মীরা একদিকে যেমন উচ্ছ্বসিত, অন্যদিকে নেতৃত্বে আসতেও মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তবে, নেতৃত্বে আসতে প্রত্যাশীদের মেলাতে হবে নানা অঙ্ক। আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, সামনে জাতীয় নির্বাচন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ছাত্রলীগের কমিটিতে ত্যাগী এবং বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এমন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান প্রভৃতি বিষয় মাথায় রেখে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। এর বাইরেও পদ প্রত্যাশীদের মেলাতে হবে বেশ কিছু সমীকরণ—

বয়সের ছক

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটির নেতৃত্বের বয়সসীমা অনুর্ধ্ব ২৭ বছর। তবে, বিগত তিন সম্মেলনে প্রার্থীদের বয়স অনুর্ধ্ব ২৯ বছর করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে সেশনজট প্রকট না হওয়ায় যথাসময়ের মধ্যেই সবাই শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছেন। এজন্য বয়সসীমা বিগত সম্মেলনের অনুরূপ অনুর্ধ্ব ২৯ বছরই হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তবে সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ওপরই বয়সের বিষয়টি নির্ভর করছে। প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

আঞ্চলিকতা

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আঞ্চলিকতা লক্ষণীয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদন দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ইউনিটের নেতৃত্ব। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের বিপরীতে যারা নেতৃত্বে এসেছেন তাদের অধিকাংশই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের অঞ্চলের বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের বিগত কয়েকটি কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিচয় বিবেচনা করে দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে একাধিকবার নেতৃত্ব বাছাই করা হয়েছে।

তবে, বিষয়টি মানতে রাজি নন অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বরাবরই যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়, আঞ্চলিকতাকে নয়। ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পারিবারিক ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, নিয়মিত ছাত্র, যোগ্য, দক্ষ, কর্মীবান্ধব ও সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধান্যতা

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির শীর্ষ দুই পদে বরাবরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য পেয়ে আসছে। টানা দেড় যুগ ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ যেন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান, অবস্থান, মর্যাদা, শিক্ষার মান, এগুলো বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে শীর্ষ পদে কে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তা কখনো গুরুত্ব পায় না। বরং ব্যক্তির যোগ্যতা, দক্ষতা, বিশ্বাস, অতীতের নেতৃত্ব, সে কতটুকু সৎ, দলের প্রতি নিবেদিত কতটা; এগুলো বিবেচনা করে নেতা নির্বাচিত হয়।

পারিবারিক মতাদর্শ

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ছাত্রলীগে বরাবরই পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শ নেতৃত্বে আসতে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। পরিবারের সদস্যদের কেউ আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তিনিই নেতৃত্ব প্রত্যাশী দৌঁড়ে এগিয়ে থাকেন। এছাড়াও, পরিবারে মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও সেটা গুরুত্ব পায়।

বিতর্কিত ও বিরোধী শিবিরে সম্পৃক্ততা

নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল সূত্র। শিক্ষার্থী মহলে জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের হাতেই নেতৃত্ব দিতে চায় দলীয় হাইকমান্ড।

৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ছাড়াও অপর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলন ২ ডিসেম্বর। সমীকরণ মিলিয়ে কারা নেতৃত্বে আসছেন সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

(ঢাকাটাইমস/০২ডিসেম্বর/এসকে/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :