তেল-আটা-চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক, কৃত্রিম সংকটে লাগামহীন দাম

পুলক রাজ, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩:২৯ | প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩:২৮

নিত্যপণ্যের বাজারে যেন অস্থিরতা কাটছেই না। উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্যে নেই কোনো ধরনের সুখবর। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা থেকে মজুদ করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাত ব্যবসায়ীদের। ব্যয় কমিয়েও আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছেন না তারা। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতিরঝিল, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, রামপুরা, মগবাজার, পান্থপথ, ফার্মগেট, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানে আটা বা ময়দার সংকট থাকলেও চিনি বাজারে নেই বললেই চলে। তবে যে দোকানে দেখা মিলছে চিনির সেই দোকানে সয়াবিন তেলের সংকটও দেখা যাচ্ছে। এসব পণ্যের প্যাকেটজাত পাওয়া গেলেও নেই খোলা পণ্য। ক্রেতাদের ছুটতে হচ্ছে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। দামে তো বেশি দিতেই হচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের।

আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা দাম কমলেও নানা অজুহাতে দেশীয় বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিনি ও তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০২ ও প্যাকেটজাত চিনি ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাজারে সেই নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে না। খোলা সাদা চিনির কেজি ১২০ টাকা। প্যাকেটজাত সাদা চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা। বাজারে প্যাকেটের দেশি লাল চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা করে।

মিল মালিক ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। অন্যদিকে ডলারের দাম বাড়ার কারণে টানা কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে চিনির দাম বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, মিল মালিকরা ১০৮ টাকা নিচ্ছে প্রতিকেজি চিনি। এই চিনি ৯৫ টাকা ছিল যখন তাতেই বেশি মনে করছিলেন তারা।

সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক বছরে চিনিতে ৪৬ শতাংশ, ভোজ্যতেলে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ, আটা ও ময়দায় মানভেদে ৫২ থেকে ৬৬ শতাংশ, চাল মানভেদে ১০-১১ শতাংশ এবং ডালে ২০-৪৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার ক্রেতা মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ঢাকা টাইমসের কথা হয়। তিনি বলেন, মাসের পর মাস যাচ্ছে, চিনির অস্থিরতা বাড়ছে। চিনির সঙ্গে সঙ্গে বাজারের প্রতিটি পণ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া। সব কিছু মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এ রকম চলতে থাকলে তো মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে না! সরকারের কাছে আমার অনুরোধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।

দেশের বাজারে ১৭ নভেম্বর নতুনভাবে দাম বাড়ানো হয় ভোজ্যতেলের। এক লাফে লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়িয়ে খোলা সয়াবিনের দাম ঠিক করা হয় ১৭২ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯৫ টাকা। অনেক খুচরা দোকানে পুষ্টি, তীর, রুপচাঁদার কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ লিটারের তেল পাওয়া গেলেও এক ও দুই লিটার তেল সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতা- বিক্রেতারা।

বাজারের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কারসাজি শুরু করেছে আটা নিয়ে। প্যাকেট ও খোলা আটার দামও বেড়েছে। খোলা আটা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি কিছুদিন আগেও আটার কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল। প্যাকেটজাত দুই কেজি ওজনের আটা ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ছিল, যা কিছু দিন আগেও ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া প্যাকেট ময়দা ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, ময়দা খোলা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মহানগর প্রজেক্ট এলাকার মুদি দোকানি তৌহিদুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, আটা, ময়দা, চিনি, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতা কম। বিভিন্ন কোম্পানিও খুচরা বাজারে এসব পণ্য কম দিচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য আজকে দেশের বাজার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করছে তারা।

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, চিনি, ভোজ্যতল, ডাল ও গমের (আটা) আমদানি করছে দেশের কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা হচ্ছে এটা প্রমাণিত।

(ঢাকাটাইমস/০২ডিসেম্বর/পিআর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :