সোহরাওয়ার্দী উদ্যান খাঁচার মতো, নেতাকর্মীরা নিরাপদ মনে করছেন না: রিজভী

প্রকাশ | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৩৯ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে করা হবে বলে ফের জানালেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, নয়াপল্টনেই বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চার দিক থেকে ঘেরা একটা খাঁচার মতো। সেখানে নেতাকর্মীরা নিরাপদ মনে করছেন না। নয়াপল্টনকেই তারা নিরাপদ মনে করছেন।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশ নিয়ে পুলিশের আইজিপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তবে শেখ হাসিনার মর্জিমাফিক আর কিছুই হবে না। বিরোধী আন্দোলনের ঝড়ো হাওয়া তিনি আর স্থির করতে পারবেন না। নতুন নতুন প্রহসন ও নাটক করে শেষ রক্ষা হবে না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ রাজশাহী মহানগরে রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ। এই গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রচণ্ড রকম বাড়াবাড়ি করেছে। তিন দিন আগে থেকেই জনগণ সমাবেশের মূল মাঠে আসার জন্য চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদেরকে ঢুকতে দেয়নি এবং প্রচণ্ড রকমের হয়রানি করেছে। প্রশাসন ও সরকারি দলের নির্দেশেই গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়ার পর গতকাল থেকে বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় তিন চাকার পরিবহনও।

রিজভী বলেন, সমাবেশে আসার পথে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোরে জনতার ওপর সহিংস আক্রমণ করা হয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ জনগণের ওপর। বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পুলিশ সড়ক আটকিয়ে দিলেও কিংবা মিছিলে বাধা দিয়ে ও হামলা করেও জনতার স্রোত রোধ করা যায়নি। বিএনপির চলমান এই ধারাবাহিক সমাবেশগুলো মানুষের উপচেপড়া ভিড় প্রমাণ করে জনগণ সরকারকে আর এক মুহূর্তের জন্য ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থনৈতিক ধাক্কা ও দুঃশাসনের কশাঘাতে ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বেসামাল হয়ে গেছে। সরকারবিরোধী হাওয়া প্রবল আকার নিচ্ছে। তাই ছলে-বলে কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশজুড়ে পুলিশ-র‌্যাবকে দিয়ে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘কো-অপারেটিভ ফ্যাসিজম’রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। এক ধরনের দুর্ভাবনা থেকেই স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে নিবৃত্ত করতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা ও গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পথে-ঘাটে চলছে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের মিলিত অপমান, অত্যাচার এবং সহিংস পৈশাচিকতা। মিথ্যা ককটেল বিস্ফোরণ মামলা, কবর থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে হাস্যকর মামলা দায়ের, অক্ষত গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দায়ের, ছাত্রলীগ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা মিছিল করে নিজেরা ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের, কোনো ঘটনা না ঘটলেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাদের বাদী করে মিথ্যা ককটেল বিস্ফোরণের মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটছে সমানতালে।

সংবাদ সম্মেলনে গত তিন দিনে ৭৭৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান রিজভী।

(ঢাকাটাইমস/০৩ডিসেম্বর/ইএস)