অভিমান ভুলে জোটবদ্ধ নির্বাচনে যাচ্ছে ১৪ দল

জাফর আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩৬ | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৭

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল, ১৪ দলীয় জোট আর থাকছে না। শরিক দলগুলোর নেতারা অনেকেই ক্ষুব্ধ এবং তারা বিকল্প জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, এমন গুঞ্জনও ছিল বেশ জোরালো।

এমনকি ১৪ দলীয় জোট ভেঙে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বিএনপির সঙ্গে নতুন জোট গঠন করে সরকার পতন আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামবে বলেও গুঞ্জন উঠেছিল।

তবে এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবেই করবেন তারা। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে শরিকদের বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তারা।

শরিকদলগুলোর নেতারা জানান, ১৪ দল এখন আগের তুলনায় আরও জোটবদ্ধ, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।

১৪ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, জোটের মধ্যে বিভিন্ন সময় টানাপোড়েন থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তা এখন আর নেই। জোটবদ্ধ জাতীয় নির্বাচনের পথেই এগোচ্ছেন তারা। জোটবদ্ধ মেরুকরণ তৈরি করে সে অনুযায়ী তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়েও জানান দিচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, সবশেষ গত ১৫ মার্চ গণভবনে শরিকদলের সঙ্গে বৈঠকে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে আগামী জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা ঢাকা টাইমসকে জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিক দলগুলোর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ১৪ দলীয় জোটকে আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। জোটের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ১৪ দলের প্রধান সন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘১৪ দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে। ১৪ দলের ঐক্য ছিল, আছে, থাকবে।’

এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলন করে ১৪ দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, ‘১৪ দলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ১৪ দলীয় জোট এখন ভাইরাস প্ল্যাটফর্ম। ওখানে সব দল এখন আওয়ামী লীগের কাজ করে। ১৪ দলের শরিক অন্য দলকেও ওখান থেকে সরে এসে গণতন্ত্রের পথে ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

১৭ বছর পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় জাসদের এই অংশটি।

১৪ দলের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এখন আর কোনো টানাপোড়েন নেই। আগামী নির্বাচন আমরা জোটগতভাবেই করব।’

জোটের আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ আছে। আগামী নির্বাচন জোটগতভাবেই করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আগামী নির্বাচন আমরা জোটগতভাবে করব।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ যেভাবে নিজেদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে জোটকেও সক্রিয় করতে হবে। বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতের যে ষড়যন্ত্র, তা রুখতে হলে ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় করার বিকল্প নেই। জোটের মধ্যে অসন্তোষ থাকলে সমাধান করতে হবে। এখন জোটের কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং রাজনীতিতে যেসব সমালোচনা হচ্ছে, এর জবাব দিতে কর্মসূচি দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ২৩ দফার ভিত্তিতে গঠিত হয় এই জোট। এই জোট ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেয়। দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয় জোট নেতাদের। তবে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদে শরিকদলগুলোর কোনো মন্ত্রী নেই। তবুও আগামী নির্বাচন জোটবদ্ধভাবেই করার সিদ্ধান্ত রয়েছে ১৪ দলীয় জোটের।

(ঢাকাটাইমস/০৪ডিসেম্বর/জেএ/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :