চিলমারীতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই স্কুল ছুটি, অভিভাবকদের ক্ষোভ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৫২ | প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:২৮

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি হয়ে যাচ্ছে। এতে পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। এদিকে স্কুল ছুটি হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি শিক্ষা অফিস।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুরের মধ্যে ছুটি হয়ে গেছে। এর মধ্যে শরিফেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডি এ চিলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থানাহাট ১নং ও ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থায় দেখা গেছে।

শিক্ষা অফিস বলছে, সোয়া ৩টা পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখতে হবে। অথচ দুপুর দুইটার আগেই শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন অনেক শিক্ষকই।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড় টার দিকে মুদাফৎথানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক কে উপস্থিত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকি শিক্ষকরা স্কুল ত্যাগ করে বাড়ি উদ্দেশে রাস্তায় গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অথচ তখন ঘড়ির কাটায় দেড়টা বাজে।

এদিকে উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের শরিফেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র স্কুলে দেখা মেলেনি কাউকেই। তালা ঝুলছিল শ্রেণিকক্ষে। তখন ঘড়ির কাটায় ২টা বাজে। ছবি ওঠানোর সময় স্থানীয় একজন বলেন, জোহরের আজানের সময় স্কুল ছুটি দিয়েছেন শিক্ষকরা।

অভিভাবকসহ সুশিল সমাজের লোকজন দাবি সদর থানাহাট ইউনিয়নের এলাকার স্কুলেই এমন অবস্থা। তাহলে চরাঞ্চলে কী হবে। শিক্ষকরা কেন পাঠদান পরিচালনা করতে দায়িত্বে অবহেলা করছেন। এই পিছিয়ে পড়া উপজেলাকে এগিয়ে শিক্ষাই বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অথচ এই শিক্ষা ব্যবস্থাই এত অবহেলা।

রমনা মডেল ইউনিয়নের ডিএ চিলমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার অভিভাবক নুর নবী বলেন, ১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ছুটি হয়েছে। এমন করে কি লেখা পড়া হবে? তারা স্কুলে আসে আর যায়।

বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবক মাজেদা বেগম বলেন, ১০ মিনিট হলো স্কুলছুটি হয়েছে। এমনিতে সবাই বই পায়নি। তার পর তারাতাড়ি ছুটি, কী যে হবে ছেলেমেয়েদের।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বলেন, সদর অঞ্চলে যদি দায়িত্বে অবহেলা করে তাহলে চরের স্কুলগুলোর কী অবস্থা হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ভালোভাবে নজর দেয়া উচিত। পড়ালেখার মানোন্নয়ন জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমকর্তা মো. আবু সালেহ সরকার জানান, সোয়া ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস নেয়ার নিয়ম আছে। শিক্ষকরা কী কারণে স্কুল ছুটি দিলেন সেটা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/৯জানুয়ারি/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :