‘যতবার দাঁড়াতে চাই, ততবারই শেষ হয়ে যাই’

প্রকাশ | ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ১৬:১১ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ১৭:৩৩

রুদ্র রাসেল, ঢাকাটাইমস

মঙ্গলবার দুপুর একটা। বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। গোটা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, কৌতুহলি মানুষের ভিড়। এ অবস্থায় ভিড় ঠেলে মহানগর মার্কেটের দিকে এগোতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এক ব্যক্তি। চোখেমুখে তার হতাশা। মহানগর মার্কেটের পোড়া দোকানের দিকে আঙুল দেখিয়ে পুলিশকে বললেন, ‘এ মার্কেটে আমার দোকান, পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ এ কথা বলেই হাইমাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। এবার পুলিশ তাকে দোকানে দিকে যাওয়ার অনুমতি দিলেও এগোলেন না। 

বললেন, ‘পোড়া দোকানে গিয়ে আর কি হবে। মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে ঈদের জন্য দোকানে মালামাল তুললাম। আমার সবই তো শেষ। ভাগ্যটাই এমন। যতবার দাঁড়াতে চাই, ততবার শেষ হয়ে যাই। আমি পঙ্গু হয়ে গেলাম।’ 

এরপর সড়কের এ পাশ থেকে পোড়া মার্কেটটির দিকে তাকিয়ে নিরবে চোখের জল ঝরালেন তিনি। এ সময় ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা হয় তার। জানালেন, তার নাম এস এম আব্দুল্লাহ আল রেদওয়ান (সবুজ)। বঙ্গবাজার মহানগর কমপ্লেক্সের দোতলার ১৩৪ নম্বর ‘সবুজ গার্মেন্টস’ নামে একটি দোকানের মালিক তিনি। পাইকারি ও খুচরা প্যান্ট বিক্রি করতেন দোকানে।

সবুজ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে দোকানে ১৮ লাখ টাকার মাল তুলেছি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। মানুষের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ করেছি। ভেবেছি, ঈদে কেনাবেচা শেষে টাকাগুলো উঠে আসলে ঋণ শোধ করে দেবো। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি আমার সব কেড়ে নিল। সব মাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সারা জীবনের সঞ্চয়ও শেষ। উল্টা মানুষের দেনা, ব্যাংকের পাওনা আমি কিভাবে শোধ করবো।’ 

তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘একটু ভালোভাবে জীবন চালাতে, পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে, কত শ্রম দিয়ে গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ঈদ সামনে তাই ঋণ করি, ব্যাংক থেকে লোন নেই। এখন আমার কি হবে। পরিবার নিয়েই বা কিভাবে চলবো, মানুষের টাকাই বা শোধ করবো কেমনে?’    

আগুনে পুড়ে যাওয়া ‘সবুজ গার্র্মেন্টস’র মালিক আব্দুল্লাহ আল রেদোয়ানের বাড়ি লহ্মীপুরে। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যায় বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের বঙ্গবাজার মার্কেট, মহানগর মার্কেট, আদর্শ মার্কেট ও গুলিস্তান মার্কেট। এসব মার্কেটে প্রায় তিন হাজার দোকান আছে। তার সবকটি পুড়ে গেছে। পোড়াস্তূপ ছাড়া সেখানে আর কিছু নেই।

বঙ্গবাজারের পাশে অ্যানেক্সকো টাওয়ার মার্কেটের উত্তর পাশের বেশ কয়েকটি দোকান এবং সড়কের বিপরীত পাশের ইসলামিয়া ও হোমিও মার্কেটের কয়েকটি দোকান এবং পাশের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ভেতরে একটি পাঁচতলা ভবনও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌ বাহিনীর সম্মিলিত সাহায্যকারী দল হেলিকপ্টার নিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করেছে। এছাড়া র‌্যাব ও পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ভিডিপিরে একাধিক ইউনিটও ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। 

(ঢাকাটাইমস/০৪এপ্রিল/আরআর/আরকেএইচ)