তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি ফের বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই

নুর আলম বাবু, নীলফামারী
| আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ১৭:১০ | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২৩, ১৬:৪৫

উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। কখনও বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই । আবার কখনও বিপৎসীমার ওপরে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে পানি যখন একটু কমতে শুরু করে তখন নদী পাড়ে দেখা দেয় ভাঙন। তখন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

বুধবার সকাল সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার দশমিক ৫সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। সোমবার সকালে ৬টায় পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.২০ সেন্টিমিটার। পরে সকাল ১০টায় বিপৎসীমার সেন্টিমিটার নিচে নেমে যায়। বিকাল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার রাতে পানি বিপৎসীমার দশমিক ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার সকালে পানি বিপৎসীমার ৫সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সকাল ৯টার দিকে পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর দুপুর থেকে পানি আরও কমতে শুরু করেছে। রাতের দিকে আরও পানি কমে যেতে পারে। মঙ্গলবার বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার সকালে বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দোমহনী বন্যা পূর্বাভাস ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভারতের গজলডোবা ও মেখলিগঞ্জ (বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত) তিস্তা ব্যারাজে বেশ কিছু জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারত তাদের এলাকার মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে গত তিন দিন ধরে হলুদ সংকেত জারি রেখেছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেশ্বর চল এলাকার রোকনুজ্জামান বাবু বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ উজানের পানি আসতে থাকে ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। শনিবার পানি কমলেও রবিবার রাত থেকে পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পায় তবে পনি কমতে শুরু করেলেও আজকে কিছুটা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে নদীতে একেবারে কম পানি কম ছিল। দেখা গেছে আগের চেয়ে নদীর তলদেশ অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। এই কারণে অল্প পানিতে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ি চরখড়িবাড়ি গ্রামের গ্রামের অলিয়ার মিয়া বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কমতে শুরু করেছে। এতে কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর নদীর পেটে আমাদের ফসলী জমি যাচ্ছে। এবারও চলে যাবে হয়তো এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ইউনিয়নের চল ঝাড়সিংহেশ্বর চরসহ বেশ কিছু এলাকায় পানি প্রবেশে করেছে। ওসব এলাকাগুলোতে সবসময় খোঁজ-খবর রাখছি। নিম্নাঞ্চলে বসবাসরতদের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষজন বন্যার আশঙ্কায় সতর্কাবস্থায় রয়েছে। এখনো বন্যা দেখা না দিলেও কয়েক জায়গায় নদী ভাঙনের খবর পেয়েছি।

ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমার মধ্যেই রয়েছে। আজ সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেহেতু বর্ষা মৌসুম যেকোন মুহূর্তে পানি বাড়তে পারে। এজন্য তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড কঠোর তৎপর রয়েছে। যাতে কোন রকম বাঁধ ভাঙে। এজন্য আমাদের পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান তিস্তা নদীর তলদেশ কিছুটা ভরাট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একটা জরিপ করেছে। এটা ড্রেজিং করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

এদিকে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা এবং লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী এলাকার নদীর চরাঞ্চলের নিচু এলাকার অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানির শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। হঠাৎ পানি বাড়ার ফলে গবাদি পশুপাখির খাবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি চরের বাসিন্দা। বন্যার আশঙ্কায় তিস্তাপাড়ের ফসল আগাম ঘরে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

(ঢাকাটাইমস২১জুন/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :