দিনাজপুরে অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছ চাষে স্বাবলম্বী সুশান্ত

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
 | প্রকাশিত : ০৭ জুলাই ২০২৩, ১৩:৫০

অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের সুশান্ত চৌহান। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করলেও বর্তমানে তিনি ৯ একর জমির চারটি পুকুরে অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস, রুই, কাতল, মৃর্গেল, সিলভারকাপ, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছের চাষ করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। আরও কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে মৎস্য চাষে ঝুঁকছেন।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার নিজ গ্রাম চাকলায় ২০১৭ সালে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন ইলেক্ট্রেশিয়ান সুশান্ত চৌহান। পরের বছর নিজের জমি কেটে আরও দুটি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়া মাছের চাষের পরিথি বাড়ান তিনি। ২০০০ সালে নিজের দুই একর জমিতে আরো একটি পুকুর তৈরি করে অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছের চাষ শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সুশান্ত চৌহানকে। বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামসহ পার্শবতী এলাকার ৯ একর জমিতে ৪টি পুকুরে অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস রুই, কাতল, মৃর্গেল, সিলভারকাপ, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছের চাষ করছেন।

মৎস্য চাষি সুশান্ত চৌহান জানান, ‘তিনি এখন সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা লাভ করেন। এতে তার অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তিনি নিজের পাশাপাশি আরো কয়েকজনের কর্মসংস্থান করতে পেরে খুশি। পুকুরের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান।’

ছেলে ইলেক্ট্রেশিয়ান সুশান্ত চৌহানের সংগ্রামী জীবনের সাফল্য দেখে বাবা মাধব লাল চৌহানও অন্যপেশা ছেড়ে ছেলেকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। পুকুরগুলো তত্বাবধায়নে কাজ করছেন তিনি।

মাধব লাল চৌহান জানান, ‘এখন আর তাকে অন্য কোন কাজের সন্ধান করতে হয় না। ছেলের পুকুর দেখা-শোনা করেই তার দিন পার হয়ে যায়। এজন্য ছেলে তাকে ন্যায্য পারিশ্রমিকও দেয়। এই টাকা জমিয়ে তিনি জমি ক্রয় করেছেন। সেই জমিতেও পুকুর তৈরির পরিকল্পনা চলছে।’

সুশান্ত চৌহানের পুকুর থেকেই পাইকারেরাা হাট-বাজারে বিক্রির জন্য ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছ।

পার্বতীপুর নতুন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানান, অফ ফ্লেবার অর্থাৎ গন্ধমুক্ত পাঙ্গাস মাছের বাজার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নিদির্ষ্ট গ্রাগকরা এ মাছ প্রায় খোঁজেন। বেশি দাম দিয়ে হলেও কেনেন। এ মাছ বিক্রিতে আমাদের লাভ ভালো থাকে। তাই পুকুর থেকেই মাছ কিনে নিয়ে যাই।’

সুশান্ত চৌহানকে এ বিষয়ে প্রথম থেকেই সহায়তা করে আসছে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র-জিবিকে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন নামে দুটি প্রতিষ্ঠান।

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র-জিবিকের মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক জানান, সুশান্ত চৌহানের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে মৎস্য চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার মাছের খামার দেখার জন্য ছুটে আসছেন অনেকেই। কম মূল্যে হওয়ায় ‘গরীবের মাছ’ হিসেবে পাঙ্গাস মাছের বেশ চাহিদা রয়েছে হাট-বাজারে। কিন্তু রান্নার পর পাঙ্গাস মাছের স্বাদে একটু আলাদা গন্ধ অর্থাৎ ফ্লেবার থাকায় তা অনেকের পছন্দ নয়। তাই অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছের বেশ চাহিদা রয়েছে। ভোক্তাদের কাছে অফ ফ্লেবার পাঙ্গাস মাছ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’

সুশান্ত চৌহান মাছ চাষ করে অল্প সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। এমন দৃষ্টান্ত দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক মাছ চাষে ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে অনেক যুবক সফলতাও পেয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/০৭জুলাই/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :