লক্ষ্মীপুরে সজিব হত্যার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, লাশ নিয়ে অপরাজনীতি হচ্ছে: পুলিশ

প্রকাশ | ২০ জুলাই ২০২৩, ১৫:৫৩

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে মো. সজিব হোসেন (৩০) নামে তাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। এমনকি সংঘর্ষ স্থলেও তার মৃত্যু হয়নি। ব্যক্তিগত বিরোধে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এ যুবক। এ হত্যার ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন তথ্য মেলে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। 

সজিব হত্যার ঘটনাটিকে নিয়ে অপরাজনীতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাফুজজ্জামান আশরাফ বলেন, পুলিশের কোনও গুলিতে কেউ মারা যাননি। নিহত সজিব মারা গেছেন ছুরিকাঘাতে। এ হত্যার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ।  

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে বুধবার এক সংবাদ বিবৃতিতে জেলা পুলিশ সুপার জানান, ব্যক্তিগত অর্থ লেনদেনের বিরোধে সজিবকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে চার থেকে পাঁচজন যুবক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে- মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সজিব দৌড়ে নগরীর মদিন উল্যাহ হাউজিংয়ের একটি বাসার ঢুকছেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে সজিব ফ্লাটের মালিক নোমানকে জানিয়েছিলেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। 

পুলিশ সুপার জানান, এর আগে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়েছিল। পরে পুলিশ সেই বাসার সামনে থেকে সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে সজিবের রক্তাক্ত দেহ ও মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তার শরীরে ৪টি কোপের চিহ্ন পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি বিএনপির কোনও মিছিলে অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়া তিনি রাজনৈতিক কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না। 

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে শহরের সামাদ মোড় সংলগ্ন কলেজ রোডের পুকুর পাড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর মদিন উল্লাহ হাউজিংয়ের একটি বাসার সামনে থেকে সজিব হোসেনর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর নিহত সজিবকে দলের কর্মী বলে প্রচার করে বিএনপি। 

(ঢাকাটাইমস/২০জুলাই/এসএম)