পরীমনিকাণ্ডে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন এখন...

প্রকাশ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২৯ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৪৯

আশিক আহমেদ, ঢাকা টাইমস

মনে আছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনের কথা? নায়িকা পরিমনির একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ছিল। তখন তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ডিএমপিতে থাকার সময় নায়িকা পরীমনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েন। তাদের একটি সিসিটিভি ফুটেজও ফাঁস হয়, যা দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করে।

এখন তিনি কোথায়? পরিমনিকাণ্ডের পর পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েনকে গুলশান থেকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) বদলি করা হয়। পরে তাকে ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।

২০২১ সালের ১ আগস্ট পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েনের সরকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান পরীমনি। সেখানে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে পরীমনি-সাকলায়েনকে নিয়ে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পায়।

ওই ফুটেজে দেখা গেছে, রাজাবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের গেটের সামনে ১ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা গাড়ি এসে থামে। লাল রংয়ের টি-শার্ট পরা একজন প্রথমে নামেন। এরপর কোলে একটি কুকুরসহ সাদা রংয়ের জামা পরে নামেন নায়িকা পরীমনি।

রিসিপশনে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দুজন লিফটে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ট্রলি ব্যাগ। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই ভবনের সামনে আবার আসে পরীমনির গাড়ি। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমনির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক।

বোট ক্লাব মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে পরিচয় ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েনের। সেই সূত্র ধরে গড়ে উঠেছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এরপর পরীমনির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন তিনি। মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে বের হতেন দুজনে। সর্বশেষ নায়িকা সাকলায়েনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান।

এ ঘটনার পরে মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ওই বছরের বেশি সময় পার হলেও পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও বাহিনীর শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের অভিযোগে অতিরিক্ত  পুলিশ সুপার সাকলায়েনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজও আলোর মুখ দেখেনি।

পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আদতে তদন্ত কি হয়েছিল? কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন কি জমা দেওয়া হয়েছিল? –এসব প্রশ্ন এখনও ঘুরছে প্রশাসনে।

পরীমনি ও গোলাম সাকলায়েনকাণ্ডে বিব্রত হয় পুলিশ বাহিনী। তাকে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় তখন।

মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং) মিয়া মাসুদ করিমের নেতৃত্বে কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেন্টারের উপ-কমিশনার (ডিসি) হামিদা পারভীন ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রুমানা আক্তার। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কী উঠে এসেছে সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি তারা।

৩০তম বিসিএসের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনকে পরিমনি-কাণ্ডের পরে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়। পরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তাকে ঝিনাইদহের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অধিনায়ক ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাকলায়েন বর্তমানে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২১ সালের ১৩ জুন উত্তরা বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। পরদিন উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। তখন পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। তখনই পরীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় সাকলায়েনের। এরপর দ্রুতই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে।

পরীমনি-কাণ্ডের পর খবর বেরোয়- এই নায়িকার সঙ্গে প্রায়ই রাতে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যেত সাকলায়েনকে। রাত গভীর হলে গাড়ি নিয়ে বের হতেন তারা। মাঝেমধ্যে পরীমনির বাসায়ও যেতেন সাকলায়েন।

ওই বছরের ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরীমনির নানা নাটকীয়তা শেষে সেখান থেকে তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পরিমনি ও রাজ বিয়ে করে সংসার করছেন। তাদের একটি ছেলে সন্তানও হয়েছে। আর পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন চাকরি করছেন ঝিনাইদহে।

(ঢাকাটাইমস/১৯সেপ্টেম্বর/এএ/কেএম)