গেস্টরুম-গণরুম নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ | ০২ অক্টোবর ২০২৩, ২১:৪৯

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গেস্টরুম-গণরুম শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ এবং প্রথম বর্ষ থেকেই বৈধ সিট নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সোমবার (০২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেত হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে, এর একমাত্র কারণ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা থাকার জন্য বৈধ সিট পায় না। ফলে গেস্টরুম-গণরুমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে তাদের নির্যাতিত হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে বাইরে থাকতে হয়। গেস্ট রুমের নির্যাতনের ফলে একজন শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গণরুমে বসবাস করে, গেস্টরুম করে এবং এমন অখাদ্য খেয়ে দেশের মেধার বিকাশ সম্ভব না। গেস্টরুম-গণরুমের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

 

সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি চেতনা ও বিপ্লবের নাম জড়িয়ে আছে, যা নিয়ে আমরা গর্ব করি। পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয একটি রাষ্ট্র তৈরি করেছে। কিন্তু, কষ্টের কথা হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকে বস্তির চেয়েও নিকৃষ্ট জায়গায়। তাদের খাবার বস্তির দরিদ্র মানুষের চেয়েও নিম্নমানের। গেস্টরুমে তাদের সঙ্গে দাসের মতো ব্যবহার করা হয়। জোর করে কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

তিনি দাবি জানান, পরে প্রতিষ্ঠা হওয়া দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিত করেছে। তাই আমরা চাই গেস্টরুম কালচার অচিরেই নির্মূল করা হোক এবং প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করা হোক।

 

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাহবুব নাহিয়ান বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। স্বাধীনতার জন্য মানুষ যে লড়াই চালিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল এখন সেই স্বাধীনতা নেই। সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মো. আল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান মারজানসহ প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/০২অক্টোবর/এসকে/কেএম)