দ্বাদশ নির্বাচন: ধোঁয়াশায় ১৪ দলীয় জোটের নেতারা

প্রকাশ | ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০৯ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস

জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি আওয়ামী লীগের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে। ক্ষমতাসীন দল ও জোট নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

জোটের প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। তাহলে কি এবার জোটহীন নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ- এমন প্রশ্নই ঘুরছে শরিকদের মধ্যে। এছাড়া ক্ষমতাসীন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ভিন্নধর্মী। সবকিছু মিলে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশায় দিন পার করছেন জোটের নেতারা।

আওয়ামী লীগ দুটি আসন বাদে সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। শরিকদের জন্য কোনো আসন খালি রাখেনি ক্ষমতাসীন দলটি। এতে আরও মন খারাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন শরিক নেতারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কৌশলগত কারণে দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তবে শরিকদের জন্য আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিপক্ষ যদি বড় জোট করে, তবে আওয়ামী লীগেরও জোট হবে। এর বাইরে প্রয়োজন না থাকলে জোট করবে না আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগ যে দুটি আসন খালি রেখেছে সেই আসন দুটি হলো ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এ কে এম সেলিম ওসমানের। গত সোমবার জাতীয় পার্টি ওই আসনে সেলিম ওসমানকে তাদের প্রার্থী বলে ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটকে (বিকল্প ধারা, জাতীয় পার্টি) ছেড়ে দেওয়া ৩১টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৪ দলের নেতারা বলছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন না করার বিষয়টি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নতুন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্যান্য নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট নেতাদের বৈঠক হয়। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। জোটগতভাবে নির্বাচন ও আসন ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলতি মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার আভাস ছিল, সেটাও এখনো হয়নি। 

ঢাকা টাইমসকে ১৪ দলের নেতারা বলেছেন, দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু শরিকদের বিষয়ে এখনো কিছু ক্লিয়ার করেনি।

গত ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করেছে। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মহাজোট শরিকদের নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের পরিকল্পনা, না এলে অন্য পরিকল্পনায় নির্বাচনে যাবে। বিএনপি নির্বাচনে আসা-না আসা নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর সবকিছু ঝুলে আছে। 

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী ডাকলেই আমরা তার সঙ্গে বৈঠক করব।’

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচন করব এটা আগে থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়নি।’

গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে শিকদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কিছু ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন বলবেন ১৪ দলের নেতারা সেদিন বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’


(ঢাকাটাইমস/২৮নভেম্বর/জেএ/এফএ)