নরসিংদীতে ফখরুলের মিনি মিউজিয়াম, সংগ্রহশালায় ১৩০ দেশের মুদ্রা

প্রকাশ | ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:৪১

নরসিংদী প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জানগর গ্রামের প্রয়াত হাফেজ আব্দুল ওহাব-আনোয়ারা বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান ফখরুল হাসান। এলাকায় তিনি সাহিত্যিক, লোক সাংস্কৃতিক গবেষক সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত।

১৯৮৮ সালে মামা হাফেজ মাওলানা কেরামত আলীর দেওয়া ৫টি এক টাকার নোট সযত্নে রাখতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের প্রতি ভালোবাসা জন্মে ফখরুল হাসানের। ভালোবাসা একসময় নেশায় পরিণত হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ১৩০টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন।

সংগ্রহ করেছেন বিলুপ্ত হওয়া প্রাচীন মুদ্রাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ডাক টিকেট, স্মারক, তামা-কাঁসা, কুপিবাতি, হারিকেন, পুরোনো দিনের টেলিফোন ইত্যাদি।

গত ৩৫ বছর ধরে কাজটি করছেন তিনি। এজন্য নিজ বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন মিনি মিউজিয়াম। নাম দিয়েছেনসংগ্রহশালা

ফখরুল হাসান তার সংগ্রহশালা নিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করা আমার একটি শখ। আমি নিজের চাহিদার জন্য এসব মুদ্রা সংগ্রহ করছি না। আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমার এই সংগ্রহশালা। এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, জার্মান আমেরিকাসহ ১৩০টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে যেমন এক টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আছে তেমনি অন্যান্য দেশের এক টাকা থেকে শেষ পর্যন্ত যেই টাকাটা আছে সেটাও আমি আমার সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করেছি।

ফখরুল জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে মুদ্রা সংগ্রহ শুরু করি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টাকা, ধাতব মুদ্রা, ডাকটিকিট বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিস সংগ্রহ করেছি। অনেকেই বলতেন এটা তোমার নতুন করে কিসের শখ জাগলো, আবার অনেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিতেন। তবে ফখরুলকে কাজে তার বড় ভাই . আবদুল হাই সিদ্দিক বেশি উৎসাহ জুগিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

সংগ্রহশালার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফখরুল বলেন, আমি যেন আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এই সংগ্রহশালায় বসে কাটাতে পারি। আমার শখের সংগ্রহের জিনিসগুলো দেখতে পারি এটাই আমার ইচ্ছা।

তিনি বলেন, আমার সংগ্রহশালা যেন আজীবন বেঁচে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে এই দেশের দেশের বাইরের হারানো দিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে বুঝতে পারুক। এটাই আমার প্রত্যাশা।

(ঢাকাটাইমস/২২ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/পিএস