খ্যাদের অভাবে ঘোড়া মাংস খাচ্ছে গাজাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৯ | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৬

গত ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নির্বিচারে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। চার মাস পর হলেও এখনো এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের অভাবে ভয়ংকর ক্ষুধা সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, খ্যাদ্যে অভাবে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি পরিবার তাদের বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য তাদের দুটি ঘোড়া জবাই করেছে।

পরিবারের সদস্য আবু জিব্রিল এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য ঘোড়া জবাই করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় ছিল না। অনাহারে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে।’

গাজার বেইত হানুনের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী জিব্রিল গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ শুরুর পরে জাবালিয়ায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলের কাছে একটি তাঁবুতে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাপ্তবয়স্করা ক্ষুধা সহ্য করতে পারি তবে এই চার-পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা ক্ষুধার্ত থাকার মতো কি দোষ করেছে?’ জিব্রিল বলেন, অতি গোপনে ও নিঃশব্দে তার ঘোড়া জবাই করেছিলেন এবং ভাত দিয়ে মাংস রান্না করেছিলেন। পরে তা তার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের পরিবেশন করেছিলেন। তবে ‘কেউ জানে না যে তারা আসলে একটি ঘোড়া খাচ্ছিল।’

এএফপিকে একজন নারী বলেছেন, ‘কোন খাবার নেই, গম নেই, পানি নেই। আমরা প্রতিবেশীদের কাছে অর্থের জন্য ভিক্ষা করতে শুরু করেছি। আমরা দরজায় কড়া নাড়ছি এবং কেউ আমাদের টাকা দিচ্ছে না’।

জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার বিচ্ছিন্ন উত্তরে শিশুরা দিনের পর দিন খাদ্য ছাড়া কাটাচ্ছে। কিছু বাসিন্দা বেঁচে থাকার জন্য পশুর খাদ্যকে ময়দা করছে। কিন্তু সেই শস্যের মজুদও এখন কমে যাচ্ছে।কিছু মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হলেও। তবে দুঃখের বিষয় হলো, প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।

সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কর্মীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে বেসামরিক সাধারণ মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। গাজায় ২০ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার সম্বল হলো এই ত্রাণের খাদ্যশস্য।

ডাব্লিউএফপি বলেছে, আমাদের কর্মীদের জন্য গাজা ভূখণ্ডে নিরাপদ, বাধাহীন ও দীর্ঘকালীন যাতায়াতের ব্যবস্থা চাই। তাহলেই তারা মানুষের কাছে জীবনদায়ী ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারবে। একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তি হলেই এই মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। তাই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি চায় এবং সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধান চায় সংস্থাটি।

(ঢাকাটাইমস/২৫ফেব্রয়ারি/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :