সিরিজ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩৬

প্রকাশ | ১৮ মার্চ ২০২৪, ১৩:৫৬ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৪, ১৫:১০

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকা টাইমস

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১৫৪ রানেই ৭ উইকেট হারায়  শ্রীলঙ্কা। এরপর  ক্রিজে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেন জেনিথ লিয়ানাগে। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৫  রান তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজ জিততে বাংলাদেশের দরকার ২৩৬ রান। 

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আজ প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কা শিবিরে শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পর উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। যার ফলে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর নিয়মিত বিরতীতে উইকেট হারানো লঙ্কানরা ১৫৪ রানেই হারায় ৭ উইকেট। এরপর অষ্টম উইকেটে মহেশ থিকশানাকে নিয়ে জুটি গড়েন জেনিথ লিয়ানাগে। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনি আজ তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম  শতক। তার শতকে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৫  রান তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কানদের হয়ে আজ ওপেনিংয়ে নামেন আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাথুম নিশাঙ্কা। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি তাসকিন আহমেদ। 

তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ৮ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া পাথুম নিশাঙ্কা। তার বিদায়ে ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। 

পাথুম নিশাঙ্কার পর আরেক ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দোকেও সাজঘরে ফেরান তাসকিন। তাসকিনের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে। 

এই দুই ওপেনারের বিদায়ের পর জুটি গড়েন  কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। এই জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে লঙ্কানরা। তবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে এই জুটিকে থামান আরেক পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। 

মুস্তাফিজুর রহমানের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ১৫ বলে ১৪ রান করা সাদিরা সামারাবিক্রমা। তার বিদায়ে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। 

৪১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন চারিথ আসালাঙ্কা ও কুশাল মেন্ডিস। এই জুটিতে ভর করে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠছিল শ্রীলঙ্কা। 

অবশেষে লঙ্কান শিবিরে আঘাত হেনে এই জুটিকে ফেরান রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারেই কুশল মেন্ডিসকে ফেরালেন তিনি। রিশাদের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ৫১ বলে ২৯ রান করা কুশল মেন্ডিস। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৩ রানের জুটি। 

কুশলের বিদায়ের পর  জেনিথ লিয়ানাগেকে নিয়ে জুটি গড়েন চারিথ আসালাঙ্কা। এই জুটিতে ভর করে ২২ ওভার ৪ বলে দলীয় শতক পূর্ণ করে শ্রীলঙ্কা। দলীয় শতক তুলে দিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল এই জুটি। অবশেষে এই জুটিকে থামান পেসার মুস্তাফিজ। 

মুস্তাফিজের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান চারিথ আসালাঙ্কা । আউট হওয়ার আগে করেন ৪৬ বলে ৩৭ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৩ রানের জুটি। 

চারিথ আসালাঙ্কার পর সাজঘরে ফিরে যান দুনিথ ভেল্লালাগেও। তাকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে ডিপ মিড উইকেটে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। তার বিদায়ে ১৩৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে  শ্রীলঙ্কা। 

দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দলীয় ১৫৪ রানে সাজঘরে ফিরে যান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও। ৮ বলে ১১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। 

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বিদায়ের পর মহেশ থিকশানাকে নিয়ে জুটি গড়েন জেনিথ লিয়ানাগে। অন্য ক্রিকেটাররা যেখানে আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত ছিলেন, সেখানে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। বাংলাদেশের আজ তিনি ৬৫ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। এই জুটির কল্যাণে বিপর্যয় কাটিয়ে ৪৫ ওভার ৪ বলে দলীয় ২০০ রান পূর্ণ করে শ্রীলঙ্কা। 

অবশেষে বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটিকে থামান সৌম্য সরকার। সৌম্য সরকারের বলে ডিপ মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান জেনিথ লিয়ানাগেকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া মহেশ থিকশানা। তার বিদায়ে ভাঙে ৬০ রানের জুটি। 

এর পরেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেয় জেনিথ লিয়ানাগে। ১০১ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৩৫  রান তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

জেনিথ লিয়ানাগে অপরাজিত থাকেন ১০২ বলে ১০১ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৩ টি, মুস্তাফিজ ও মিরাজ ২ টি করে এবং সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।  

(ঢাকাটাইমস/১৮মার্চ/এনবিডব্লিউ)