গরমে ওষুধ ছাড়াই বশে থাকবে হজমের সমস্যা

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪৫

তীব্র তাপদাহ চলছে প্রকৃতিতে। দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া প্রচন্ড তাপপ্রবাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তীব্র এই গরমে নানা অসুখ হানা দেয় শরীরে। তার মধ্যে অন্যতম খাবার হজমের সমস্যা। এই সমস্যা থেকে হতে পারে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আবার হতে পারে ডায়রিয়াও। অন্যদিকে এত দিন রোজা রাখার পর, অতিরিক্ত তেল-মশলা দেওয়া খাবার খেয়ে অল্প খেলেই পেট ভরে যাচ্ছে। চোঁয়া ঢেকুর, গলা-বুক জ্বালা তো আছেই। আবার ঈদের দাওয়াত খেয়ে অনেকের বেহাল অবস্থা? এই রকম হজমের সমস্যার সমাধানের জন্য কয়েকটি প্রাকৃতিক সহজ উপায় রয়েছে। কিছু অভ্যাসে বদল এনে আর কয়েকটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলে হজমশক্তি বাড়িয়ে নেওয়া যায় খুব সহজেই। চলুন তেমন কয়েকটি নিয়ম জেনে নিই-

দারুচিনি

এক কাপ পানিতে হাফ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে নিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। দিনে ২-৩ বার পান করতে পারেন এটি। প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে, গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে দারুচিনি।

আদা

আদা পেটে গ্যাস জমতে দেয় না এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা থেকেও মুক্তি দেয়। খাবার খাওয়ার পর এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চিবিয়ে রস খান, উপকার পাবেন। পানি গরম করে তাতে ২ চামচ আদার রস, ১ চামচ লেবুর রস ও লবণ মিশিয়ে নিন। তারপর সেই পানি অল্প অল্প করে খান। দ্রুত মিলবে আরাম। যারা সরাসরি আদা খেতে পারেন না, তারা রান্নায় বেশি করে আদা দিতে পারেন।

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। অম্বল ও বদহজম এড়াতে পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খান। খাওয়ার পর এক কাপ পুদিনাপাতার চা খাওয়ার অভ্যেস করতে পারলে পেটের সমস্যা নিমেষে কমে যেতে পারে। খুব সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই চা। ৬-৭টি টাটকা পুদিনাপাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে নিন।

অশ্বগন্ধা

অশ্বগন্ধা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের বিপাক হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিপাকহার বাড়লেই ওজন ঝরার প্রক্রিয়া তরান্বিত হবে। গরম পড়লেই হজমজনিত সমস‍্যার শিকার হন অনেকে। অশ্বগন্ধা কিন্তু সেই সমস‍্যার চটজলদি সমাধান করতে সিদ্ধহস্ত। এক চামচ অশ্বগন্ধার গুঁড়া হালকা গরম পানি গুলিয়ে ১০ মিনিট রেখে তারপর সেই পানীয় খেয়ে ফেলুন। দিনে এক থেকে দুই বার এই পানীয় খেতে পারেন।

শাক-সবজি বেশি খান

শাক-সবজি খেলে হজমের সমস্যা আপনাআপনিই অনেকটা কমে আসে। কারণ, শাক-সবজি দ্রুত হজম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। সবচেয়ে ভাল হয় যেসব সবজি কাঁচা খাওয়া যায়, সেগুলি যদি খাওয়া যায়। এতে হজমশক্তি আরও উন্নত হয়।

গ্রিন টি

হজমশক্তি বাড়ানো এবং হজমসংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে গ্রিন টি অতুলনীয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি হজমশক্তি বাড়ায় এবং আমাদের পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। যদি হাতের কাছে গ্রিন টি না পান তবে আদা চা পান করতে পারেন। এতেও অনেক ভাল ফল পাবেন।

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার

ক্যালসিয়াম আমাদের হজমশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে কার্যকর। ক্যালসিয়াম আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতেও বেশ সহায়তা করে।

ঝাল খাবার

গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মরিচের ক্যাপসাইসিন হজমশক্তি ভাল করতে অনেক বেশি কার্যকরী। খাবার বুঝে শুনে একটু ঝাল দিয়ে খেতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

জোয়ান ভেজানো পানি

চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, রোজের গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালার মতো সমস্যা দূর করতে জোয়ান অত্যন্ত উপকারী। পেট ফাঁপার সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় জোয়ান ভেজানো জল। কোষ্ঠ পরিষ্কার করতেও জোয়ান ভেজানো পানি অব্যর্থ।

জিরা ভেজানো পানি

হজম সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা নিমেষে দূর করতে জিরা ভেজানো পানি পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। গরমে পেট ফাঁপার সমস্যা হলেও দারুণ কাজ দেয় এই পানীয়।

অ্যালোভেরা রস

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ফাইবার সমৃদ্ধ অ্যালো ভেরার রস অত্যন্ত কার্যকর। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, উপকারী হলেও এই রস খুব বেশি না খাওয়াই ভাল। না হলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখার পাশাপাশি কোষ্ঠ পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

মধু এবং লেবুর রস

উষ্ণ জলে লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। এই পানীয় শুধু মেদ ঝরাতে নয়, হজম সংক্রান্ত নানা রকম সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, নিয়মিত এই পানীয় খেলে প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

(ঢাকাটাইমস/১৩ এপ্রিল/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :