মঠবাড়িয়ায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন, প্রণোদনা পেলে ব্যাপক হারে চাষের সম্ভাবনা

পিরোজপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৬:৫৩ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৬:৪৬

যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন হলুদের সাজানো বাগান। কাছে গেলেই দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। ফুলগুলো বাতাসে দোল খেয়ে যেন ভালোবেসে সকলকে কাছে টানছে তাদের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ দৃশ্য এখন সকলের নজর কাড়ছে। তবে সরকারি প্রণোদন পেলে আরও ব্যাপক হারে সূর্যমুখী চাষ করা যেত বলে জানান চাষিরা।

তবে প্রণোদনা না পেলেও সূর্যমুখী চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলনের সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে খুশি উপজেলার চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৫০ জন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তাদের মতে, এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী এবং কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়া যায় বিধায় তারা সূর্যমুখী চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাধারণ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উদ্যমী কৃষকদের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে মঠবাড়িয়ার ১১টি ইউনিয়নের ৪৭৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের।

সরেজমিন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে থাক বিস্তীর্ণ মাঠে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ। আর সেই ফুলের মধু সংগ্রহে ছুটে আসছে মৌমাছিরা। তারা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ছুটছে। তাদের গুঞ্জনে মুখর রয়েছে সূর্যমুখীর মাঠ। এ যেন ফসলি জমি নয়, একটি দৃষ্টিনন্দন বাগান।

মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ মণ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। সে হিসেবে তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ লিটার থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।

উপজেলার কৃষক ফজলুল হক (৫৬) প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে প্রথমবার সূর্যমুখী চাষ করেছেন। ভালো ফসলও হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে সুযোগ-সুবিধা পাই না, সহযোগিতা পেলে আশা করছি লাভের মুখ দেখতে পারবো। শুনেছি সূর্যমুখীর তেল স্বাদে, গুণে ভালো। দামও অনেক বেশি। তাই এ ফসল নষ্ট হতে দিতে চাই না।

আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক (৬৫) বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছি। এটি খুবই লাভজনক একটি ফসল। কিন্তু চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে বীজ এবং সার পর্যাপ্ত পাচ্ছি না। এ বছর সূর্যমুখী ফুলের বীজে খুবই সমস্যা হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের প্রবাস ফেরত আব্দুল আজিজ তার বাড়ির পাশে ১৯ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় সূর্যমুখীর তেল খেতেন। সে আগ্রহ থেকে দেশে এসে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন। এখন পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন আমাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিলে আমরা আরও ভালো মানের ফসল পেতাম।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, সূর্যমুখী লাভজনক ফসল। কৃষকদের বিস্তারিত জানিয়ে সূর্যমুখী আবাদ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। তবে মিঠা পানির অভাবে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতি একর জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক একর জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :