আসুন সিদ্ধান্ত নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেই: ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৪৭ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৪৪

‘চলমান সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন’ এমন মন্তব্য করে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘‘আসেন আমরা আজকেই সিদ্ধান্ত নেই, সকলে মিলে একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেই।’’

‘‘আমার বিশ্বাস, ইতিহাস থেকে যেমন শিক্ষা আমরা পাচ্ছি, যখনই আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছি তখন যত কঠিন চ্যালেঞ্জই হোক আমরা সেটা অতিক্রম করতে পেরেছি।’’

রবিবার ড. কামাল হোসেনের ৮৭তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম এই প্রণেতা বলেন, দেশ এবং জাতি যে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে সেখান থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সবাই এখানে আছেন। তাদের সবাইকে আমার আন্তরিক আবেদন।

উৎসবের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জোনাকী, কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ...’ এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের মাধ্যমে ড. কামাল হোসেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। গান পরিবেশন করেন অ্যাডভোকেট সুরাইয়া নাজনীন। এরপর উত্তরীয় পরিয়ে দেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এম আলতাফ হোসেন।

পরে একে একে নিজ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বাসদে’র উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন অন্ধকারের মধ্যে আছি। এই গভীর অন্ধকার রাত প্রায় শেষের দিকে। রাত যত গভীর হয় সকাল তত কাছে আসে। আগামী দিনে একটি নিকটবর্তী সময়ে আসতে পারে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক— সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নাগরিক কণ্ঠের প্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন সব সময় আমার পাশে থেকেছেন, আমাকে সাহস যুগিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন। আমি ওনার কাছে কৃতজ্ঞ। ওনার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। ওনার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন এখন পর্যন্ত সবার কাছে প্রাসঙ্গিক। তার দিকে আঙুল তুলতে পারে এমন কেউ এই দেশে নেই। কেউ বলতে পারবে না তিনি চুরি করেছেন, সন্ত্রাসী কাজ করেছেন। আমি চাই তিনি আরও অনেক সময় বাঁচুক।’

মান্না আরও বলেন, ‘মানুষের সামনে আশার বাতি জ্বালানোর কাজ ড. কামাল এখনো করতে পারেন। এখনো তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে পারেন। ড. কামাল হোসেন শুধু গণফোরামের সভাপতি না, তিনি সারাদেশের মানুষের সভাপতি। সারা দেশের সবাইকে একত্র করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার যে ইমেজ প্রয়োজন সে ইমেজ কামাল হোসেনের আছে।’

জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন আমাদের দেশের বাতিঘর হয়ে সারাজীবন সমুজ্জল থাকবেন এবং আমাদের দিশা দেখাবেন।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘ড. কামাল একটি অসাধারণ সংবিধান বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিয়েছিলেন। যেখানে মানবাধিকার, বেসিক রাইটস, ফান্ডামেন্টাল রাইটস নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের আজকে যে অবস্থা, তাতে আমাদের দুঃখ ভারাক্রান্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে তার প্রণীত সংবিধান ১৭ বার অস্ত্রোপাচার হয়েছে, সংশোধনী হয়েছে। আজকে যে অবস্থায় তিনি দেশকে দেখে যাচ্ছেন, গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটানো, পুণঃপ্রতিষ্ঠা করা তার প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের শ্রেষ্ট পথ।’

দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা আবু সাঈদ খান বলেন, ‘কামাল হোসেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটে ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। যদিও সেই সংবিধান এখন আর নেই। সেই সংবিধান কাটাছেড়া হয়েছে বহুবার। ড. কামাল হোসেন আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন। আগামীতেও পথ দেখিয়ে তিনি আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি তার শতায়ু কামনা করি।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমাদের এখনে গুণি মানুষের কদর নেই। এমন একটি সময়ে আমরা বসবাস করছি, যেখানে ব্যতিক্রম ছাড়া কেউ সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারেন না। ড. কামাল হোসেন আমাদের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তার মধ্যে একজন কামাল হোসেন। এগুলো ইতিহাসের অংশ। কিন্তু আওয়ামী লীগ ড. কামাল হোসেনকে ধারণ করতে পারেনি।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি করার সময় তাকে শাসক দলের রাজনীতিবিদ বলে মনে হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে। তিনি শাসক শ্রেণীর মধ্যে থাকলেও জনগণের জন্য সোচ্চার ছিলেন। তিনি ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ ব্যক্তি। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে থেকেছেন। তার কর্ম বাংলাদেশের মানুষ মনে রাখবে।’

ড. কামাল হোসেনের জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণফোরাম। জন্মদিনে দলের নেতাকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, লেখক-সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/এমআই/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :