ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে মুসলিমদের দূরে থাকার আহ্বান

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ থেকে দেশটির মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান জানানোর খবর প্রকাশ করেছে ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এদিকে, যন্তরমন্তরে সিজেপি সমর্থকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে নেতিবাচক এসব ভাইরাল ভিডিও কি বিক্ষোভের দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে কাজে লাগানো হচ্ছে? উল্টোদিকে, ভারতজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা এবং টিশার্ট বিক্রি বেড়েছে।
শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা। মূলধারার গণমাধ্যম তো বটেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবগঠিত তরুণদের এই সংগঠনকে নানা ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কেবলমাত্র একটি মন্তব্যের জেরে যে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ হলো সেটি আসলে কি চায়?
দেশটির মুসলিম যুবকদের এই আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলিম যুবকরা যেন এই বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের সাবধান করে বলা হয়েছে, কোন সহিংসতা হলে সবার আগে মুসলিমদেরই তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।
কেন ছয় বছর আগের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে এমন সাবধানবাণী। সেসময় কি হয়েছিলো? ছয় বছর আগে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের প্রতিবাদে নারী নেতৃত্বে একটি আন্দোলন শুরু হয়।
যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। তবে শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের ফলে পরবর্তীতে দেশটিতে তীব্র সামাজিক-রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হয়। দিল্লি ও আসামে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক গভীর সংকট তৈরি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অংশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, মসজিদের ঘোষণা, ইনস্টাগ্রাম রিল এবং এক্স পোস্টের মাধ্যমে সিজেপির বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ব্যাপকভাবে শেয়ার করা বার্তায় মুসলিম তরুণদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, এই বিক্ষোভ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলেও তাদের জন্য এর পরিণতি বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে।
এদিকে, গেল শনিবার ককরোচ জনতা পার্টি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ফেলে দেয়া খাবারের ট্রে, প্লাস্টিকের ব্যাগ, মোড়ক এবং অন্যান্য উচ্ছিষ্টের ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে,নেতিবাচক এসব ভাইরাল ভিডিও কি বিক্ষোভের দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে কাজে লাগানো হচ্ছে।
একইসঙ্গে দাবি তোলা হচ্ছে, পরিবর্তনের কথা বলা তরুণদের জনস্বাস্থ্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখা উচিত।
তবে ভাইরাল নেতিবাচক ছবির বিপরীতে সিজেপির জনপ্রিয়তাও কিন্তু থেমে নেই। এরইমধ্যে ভারতজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা এবং টিশার্ট বিক্রি বেড়েছে। ৩০ রুপিতে তেলাপোকার মুখোশ এবং আড়াইশো রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে সিজেপির লোগোযুক্ত টি-শার্ট। তবে লোগো নিয়ে এই বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিয়েও বিতর্ক জন্ম নিয়েছে। অনেকে দাবি করছে, এতে প্রতিবাদের মূল বার্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































