কর ফাঁকি ও অর্থপাচার বন্ধের আহ্বান সিপিডির

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ৩১ মে ২০২১, ১৯:৪৩
অ- অ+

কর ফাঁকি ও অর্থপাচার বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়ে সম্প্রসারণমূলক বাজেটের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এছাড়া নতুন করে কর আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে দেশের অর্থনীতির স্বাধীন পর্যালোচনা করতে গিয়ে এমন সুপারিশ করেছে সিপিডি। সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এতে বক্তব্য দেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

প্রবন্ধে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন চিত্র হতাশাজনক মনে হচ্ছে। ১০ মাসে হয়েছে ৪২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ১০ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৯ শতাংশ। আর স্বাস্থ্য খাতের এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যক্তি খাতে ঋণ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যেখানে ১৫ শতাংশ, প্রথম আট মাসে তা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

সম্প্রসারণমূলক বা বড় বাজেট করার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, জিডিপির তুলনায় ঋণ এখনো ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশের ঘরে রয়েছে। এখনো ঋণ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কৃষি খাতে মূল্য কমিশন ও ব্যাংক কমিশন করার সুপারিশও করেছে সিপিডি।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, মূল্য কমিশন থাকলে কৃষকেরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, ন্যায্যমূল্যও পাবেন। এ কমিশন থাকলে কোন সময়ে কী নিত্যপণ্য আমদানি করতে হবে, তার পরামর্শ পাওয়া যেত।

আর ব্যাংক কমিশন করা বহুদিনের সুপারিশ সিপিডির। সরকার একবার উদ্যোগ নিয়েও আবার পিছিয়ে গেছে। এটা দরকার। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে খেলাপি ঋণের যা দেখা যাচ্ছে, তা যে কোনো স্বচ্ছ ছবি নয়, এমনটা বলা যায়। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলেও সিপিডির কাছে ধরা পড়েছে।

প্রণোদনা বাস্তবায়নে বহু পাক্ষিক টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। বলেছে, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী বাজেটটি করতে হবে।

সিপিডি বলেছে, এ সময়ে নতুন কর আরোপ করা কঠিন। কিন্তু বাজেট তো করতে হবে। অর্থের দরকার। ফলে এখন দরকার হচ্ছে কর ফাঁকি বন্ধ করা এবং অর্থ পাচার বন্ধের দিকে নজর দেয়া।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বাজেট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ। বাস্তবে এটা দেড় শতাংশ হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ফাহমিদা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে একদিকে অর্থ বরাদ্দ কম, ‘অন্যদিকে অর্থ ব্যবহার করার সক্ষমতা নেই। কোন মন্ত্রণালয়ের কোন খাতে কী ধরনের সক্ষমতা আছে, কত ব্যয় করতে পারে, সেটাকে বেঞ্চমার্ক ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়। এখন বর্ধিত যে অর্থ দেয়া হবে, সেটা তারা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) কীভাবে খরচ করবে? আবার যেটা খরচ করল সেটাও বা কীভাবে হলো? এখানে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এগুলো আপনারাই রিপোর্ট করেছেন। সুতরাং এই একটা খাতের যে বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, দুর্নীতি, দুর্বলতা এগুলোর কারণেই কিন্তু বরাদ্দ দিয়েও লাভ নেই। সুতরাং যেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এখানে কাঠামোগত সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। এই কার্যক্রমগুলো চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। গতানুগতিক যেভাবে ব্যয় হচ্ছিল সেভাবেই হবে। বরাদ্দ বাড়ালে কিছুটা অপচয় হবে, কিছুটা চুরি হবে, এভাবেই চলে যাবে। দিন শেষে মানুষের কোনো উপকার হবে না।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনন্ত ৪ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা উচিত। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা সব জায়গা থেকে আসছে। সার্বিকভাবে সবাই বলছে, সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতির দিকে যেতে। এ ক্ষেত্রে সিপিডির সুপারিশ হচ্ছে, আমাদের যে কর কাঠামো আছে, তার মধ্যে নতুন করে কর আরোপের সুযোগ খুব বেশি নেই। আমাদের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। সে জন্য নতুন কর বা উচ্চ করের ভেতরে এখন যাওয়াটা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রসারণমূলক নীতির দিকে গেলে এখন নিঃসন্দেহে আমাদের সম্পদ সংগ্রহ বাড়াতে হবে। এই সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটা বড় জায়গা হলো আমাদের যে কর ফাঁকির জায়গাগুলো আছে, তা রোধ করতে হবে। অর্থপাচার রোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, যেকোনো সংস্কারের বিষয় এলেই সরকারের মধ্যে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/এসআই/জেবি)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬
‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’, সরাইল থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা
হত্যাসহ সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং নেতা কেন্তা ফিরোজ গ্রেপ্তার
মোহাম্মদপুরে কুখ্যাত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সদস্য দিদার গ্রেপ্তার