ইসলামী ব্যাংক ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের ইট-পাটকেলে ১০ পুলিশ সদস্য আহত

দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে এখন চলছে ক্ষমতার ত্রিমুখী লড়াই। একদিকে ব্যাংকটির ওপর জামায়াতে ইসলামীর পুরোনো প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা, অন্যদিকে সেটি ঠেকানোর সরকারি উদ্যোগ, আরেকদিকে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে রাখা এস আলম গ্রুপের প্রত্যাবর্তনের মরিয়া চেষ্টা।
প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ-সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই লড়াই সর্বশেষ প্রকাশ্য রূপ নেয় সোমবার। এদিন মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার লক্ষ্যে ও তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাতে ঢাকা টাইমসকে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ আহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মূলত সোমবার সকালে ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের যোগদান ও নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভার প্রতিবাদে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে কয়েক'শ মানুষ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে ওই এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ায় জনভোগান্তি এড়াতে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ পানি ছিটালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর রুকন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের একটি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর ছয়টা থেকে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ জন ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ও জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, এদিন এই কর্মসূচির জন্য ডিএমপির কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। তবুও তারা আন্দোলন শুরু করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে তারা অবস্থান চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন বলে পুলিশের দাবি।
পরে সকাল নয়টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াটার ক্যাননের মাধ্যমে পানি ছিটানো হয়। এর পরপরই বিক্ষোভকারীদের একাংশ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এ ঘটনায় মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার পার্থ প্রতীম বিশ্বাস, হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবীসহ মোট ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













