আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অক্সিজেন কমে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়েই মৃত্যু ৬ নবজাতকের: তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ জুন ২০২৬, ০৮:১৭
অ- অ+

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং কক্ষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকেই কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মোহসিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক ও একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনার পর রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে। সিআইডির মিডিয়া শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ মে রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পাঁচ মায়ের ছয় নবজাতককে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। ওই কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এক রোগীর স্বজনের অনুরোধে কর্তব্যরত নার্স এসি বন্ধ করে দেন। তবে কক্ষটিতে বাইরে থেকে বাতাস প্রবেশ বা বের হওয়ার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না।

একই সময়ে নবজাতকদের মা ছাড়াও প্রায় অর্ধশত দর্শনার্থী ও স্বজন কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে কক্ষের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে নবজাতকরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার গুরুতর ত্রুটি এ মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। হাসপাতালের নির্মাণ ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিতে গণপূর্ত ও মেকানিক্যাল প্রকৌশলীও যুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পর তদন্তকারী দল নিহত নবজাতকদের স্বজন, কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেছে।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩০০ শয্যার এ হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে ধনী-গরিব নির্বিশেষে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে মর্মাহত। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” ঘটনাটির পেছনে নাশকতার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তদন্ত চলমান থাকলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে অক্সিজেনের ঘাটতি ও বদ্ধ কক্ষের পরিবেশকেই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আরাকানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার ডেডলাইন আজ, নতুন করে অনুপ্রবেশের শঙ্কা
সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, আটক ৭
ভারতের সঙ্গে সংলাপ: হাসিনাসহ হাদির খুনিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া