মাটিকাটায় নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা মামলায় জামায়াতের এমপির জামাই গ্রেপ্তার

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা।
সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় মিজানুর রহমানের নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল। গ্রেপ্তারের সময় ওই বাসায় মিজানুরের শ্বশুর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরও অবস্থান করছিলেন।
রাতে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) অতিরিক্ত ডিআইজি আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খাঁন।
ডিবি সূত্র জানায়, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকার হলি অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেড এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা গুলি ছোড়েন এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এতে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক তার, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটে তাদের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ওইদিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













