২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে
‘মাইট্রি’ অ্যাপ উপহার দিতে চায় আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফাউন্ডেশন

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ‘মাইট্রি অ্যাপ’ তৈরি করেছে আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফাউন্ডেশন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল ট্রি মনিটরিং ও ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং জাতীয় বৃক্ষ ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ।
এর আগে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন।
ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোপিত গাছের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়, রেকর্ড ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা তৈরি করাই মাইট্রির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে গাছের প্রজাতি, রোপণের তারিখ, রোপণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, ছবি, জিপিএস অবস্থান, পরিচর্যার তথ্য, বেড়ে ওঠার রেকর্ড ও টিকে থাকার অবস্থা সংরক্ষণ করা যাবে।
অ্যাপটিতে প্রতিটি গাছের জন্য ‘ডিজিটাল ট্রি আইডি’ ও কিউআর কোড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছের অবস্থান জিপিএস ও জিআইএসের মাধ্যমে ম্যাপিং এবং পরবর্তী সময়ে তার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।
মাইট্রির অন্যতম লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা গাছের তথ্য নিয়ে একটি জাতীয় বৃক্ষ ডেটাবেজের ভিত্তি তৈরি করা। ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের মাধ্যমে রোপণ করা গাছের তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা যেতে পারে। এতে কোথায়, কখন এবং কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, কে বা কোন প্রতিষ্ঠান গাছটি লাগিয়েছে এবং বর্তমানে গাছটির অবস্থা কী এসব তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাইট্রির প্রযুক্তিগত কাঠামোয় এআইভিত্তিক ট্রি ভেরিফিকেশন, কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল ট্রি আইডি, জিপিএস ও জিআইএস ম্যাপিং, স্যাটেলাইট ও এনডিভিআই মনিটরিং, ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, গাছের টিকে থাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ডেটা অ্যানালিটিকসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কার্বন ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থাও রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অ্যাপটির প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির সময় Afforestation, Reforestation and Revegetation (ARR) কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্বন মানদণ্ড অনুসরণ করে ভবিষ্যতে কার্বন হিসাব ও জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত কাজে এই তথ্যভান্ডার সহায়ক হতে পারে বলে মনে করে তারা। তবে এ ধরনের কাজে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, প্রকল্প কাঠামো ও যাচাইপ্রক্রিয়া পূরণ করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে তারা ‘মাইট্রি অ্যাপ’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার হিসেবে দিতে চায়।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মাইট্রি অ্যাপের উদ্যোক্তা হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘গাছ লাগানো একটি মহৎ উদ্যোগ, কিন্তু গাছকে বাঁচিয়ে রাখা আরও বড় দায়িত্ব।’ প্রতিটি গাছের ডিজিটাল ইতিহাস তৈরির মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, পরিচর্যা, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার লক্ষ্য তাদের।
ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইট্রির মূল ধারণা—‘One Tree, One Digital Identity’ এবং ‘Every Plantation, A Digital Record’।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













