তিন সপ্তাহের ঘরেই লেপার্ড দুটির কেটে গেল ৯ বছর!

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১২
অ- অ+

আজ ৪ অক্টোবর বিশ্ব প্রাণী দিবস। প্রাণী সংরক্ষণ ও তাদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে দিনটি পালিত হলেও গাজীপুর সাফারি পার্কে দুটি লেপার্ডের জীবন যেন তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল তাদের। সেই সময় পার হয়ে গেছে প্রায় নয় বছর। এর মধ্যে শাবক থেকে পূর্ণবয়স্ক হয়েছে লেপার্ড দুটি, কিন্তু বদলায়নি তাদের আবাসন।

২০১৭ সালে খুলনা থেকে পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লেপার্ডের শাবক দুটি উদ্ধার করে। পরে তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। বন্য প্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখার পর তাদের জন্য আলাদা বেষ্টনী তৈরির কথা থাকলেও তা আর হয়নি।

সম্প্রতি ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, লেপার্ড দুটি ছোট লোহার গ্রিলঘেরা কক্ষে রয়েছে। কখনো বসে থাকছে, আবার কখনো সীমিত জায়গার মধ্যে লাফালাফি করছে। গাছে ওঠা, বিস্তৃত এলাকায় ঘোরাফেরা কিংবা স্বাভাবিকভাবে শিকার করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ দেখলে কখনো কখনো গ্রিলের দিকে তেড়ে আসছে প্রাণী দুটি।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, লেপার্ড দক্ষ লাফিয়ে ওঠা ও গাছে চড়তে পারে। তারা প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে লাফ দিতে সক্ষম এবং শিকারকে গাছের ওপর তুলে রাখার ক্ষমতাও রয়েছে।

প্রাণী কল্যাণকর্মী পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (পিএডব্লিউ) জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, লেপার্ডের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, উচ্চতা ও সূর্যের আলোসহ উপযুক্ত ইনক্লোজার প্রয়োজন। দীর্ঘদিন একই ধরনের ছোট জায়গায় রাখা তাদের স্বাভাবিক আচরণের জন্য উপযুক্ত নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, দীর্ঘদিন বন্দী থাকলে বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক আচরণ ও শিকার করার দক্ষতা হারাতে পারে। তাই উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল সাফারি পার্ক পরিদর্শন করে তৎকালীন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এসিএফ মো. তারেক রহমান বলেন, নির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় লেপার্ড দুটিকে দর্শনার্থীদের সামনে আনা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বিষয়টি পরিদর্শন করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সাফারি পার্কে জিরাফের বেষ্টনী থাকলেও সেখানে নেই কোনো জিরাফ। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ১০টি জিরাফের সবগুলোই ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মারা গেছে। ফলে বিশ্ব প্রাণী দিবসে লেপার্ডের দীর্ঘ বন্দিজীবন ও জিরাফশূন্য বেষ্টনী—দুটিই পার্কের প্রাণী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

(ঢাকা টাইমস/৪অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সেপ্টেম্বরে ৪৪২ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত
খুলনায় চা খেতে বেরিয়ে গুলিতে নিহত কমিউনিস্ট পার্টির নেতা
সংস্কারের প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ
বান্দরবানে তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ