তালাবদ্ধ ৪০০ কোটি টাকার সবজি রক্ষার ‘মিনি কোল্ড স্টোরেজ’

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১১| আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৩
অ- অ+

প্রতি বছর বগুড়ায় প্রায় চারশ কোটি টাকার সবজি পচে নষ্ট হয়। কৃষকদের এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে এবং বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে আট মাস আগে সরকারি উদ্যোগে জেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত আটটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়। তবে কৃষকদের মাঝে তথ্য সরবাহে ঘাটতি, তদারকির অভাব ও ব্যবহার না জানায় সরকারি এই উদ্যোগটি কাজে আসছে না। আটটি কোল্ড স্টোরেজের বেশির ভাগই এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে “ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ” নামে সরকারি প্রকল্পের আওতায় জেলার শিবগঞ্জ, গাবতলী ও সারিয়াকান্দিতে এসব কনটেইনারভিত্তিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ধরে রাখার সক্ষমতা থাকা এসব কোল্ড স্টোরেজের বেশির ভাগই তালাবদ্ধ। কয়েকটি চালু থাকলেও ভেতরে কোনো কৃষিপণ্য নেই। এ ছাড়া কোনোটিতেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। যেগুলো নামমাত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোও গ্রিডের বিদ্যুতে।

মহাস্থান হাটের কাছে মনিতলা এলাকায় স্থাপিত একটি কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনা করেন কৃষিতে ডিপ্লোমাধারী মো. রোকনুল ইসলাম রোকন। জানতে চাইলে রোকন বলেন, প্রায় আট মাস আগে তিনি কনটেইনারটি পেয়েছেন। বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়া ও ক্রয়সহ বিভিন্ন কাজে তার প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজটিতে সৌর প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারি ও জাতীয় গ্রিডের সংযোগ রয়েছে। তবে রোকন শুধু গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এতে মাসে তার প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা বিদ্যুৎ খরচ হয়।

রোকন বলেন, কন্টেইনার পাওয়ার পর তিনি ১৪ দিন কাঁচামরিচ সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে পরে বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। কেনা দামের চেয়ে কেজিতে ১৫ টাকা কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। তিনি বিটরুট ও লেবুও সংরক্ষণ করেছিলেন তবে বর্তমানে তার কোল্ড স্টোরেজে কোনো কৃষিপণ্য নেই।

মহাস্থান হাটের কাছে আরেকটি কোল্ড স্টোরেজের অপারেটর তাহেরুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের জন্য সেখানে পটোল ও ঢেঁড়স সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে কীভাবে এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা তিনি জানেন না। তাই সেটি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালক পরিদর্শনে এলে তিনি প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করেছেন।

গাবতলীর বাগবাড়ির অপারেটর মো. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা পণ্য না আনলে তিনি কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ রাখেন। মাঝে মাঝে সেটি চালু করেন। তিনি বলেন, কৃষকেরা সবজি সংরক্ষণ করতে চান না। আমি কী করতে পারি?

মোকামতলার অপারেটর মো. সুজাউল ইসলামও বলেন, প্রযুক্তিটি কাজে লাগানো সম্ভব হলেও কৃষকেরা এখনো এর সঙ্গে পরিচিত নন।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মাহফুজ আলম বলেন, জেলায় বছরে ৫ লাখ টনের বেশি সবজি উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টনের বেশি সবজি বিক্রি না হয়ে পচে নষ্ট হয়। এসব সবজির বাজারমূল্য প্রায় ৩৯৫ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

কৃষকদের এই ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সবজি সংরক্ষণের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে দেশে ১০০টি কনটেইনারভিত্তিক মিনি হিমাগার (টিএসসিসি) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আটটি মিনি হিমাগার স্থাপন করা হয়েছে। সবজি ও আলু উৎপাদন বেশি হওয়ায় শিবগঞ্জে চারটি, গাবতলীতে তিনটি এবং সারিয়াকান্দিতে একটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি হিমাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এসব হিমাগারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবজি সংরক্ষণ করা যাবে।

মাহফুজ আলম বলেন, মিনি হিমাগারগুলো সোলার সিস্টেম তথা সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার সময় এসেছে। উন্নত দেশগুলোতে কৃষক পর্যায়ে ছোট কোল্ড স্টোরেজ বহুল ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের প্রকল্প প্রথমবারের মতো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সোলারভিত্তিক ও অ্যাপ নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির এসব মিনি হিমাগার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, মিনি হিমাগারগুলো নিয়ে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো নোট করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে প্রকল্পটির পরিচালক তালহা জুবায়ের মাসরুর বগুড়ায় এসে বিষয়গুলো পরিদর্শন করেছেন। তার পরিদর্শনে পাওয়া বিষয়গুলোসহ সব অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে ফসলের অপচয় কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ।

(ঢাকা টাইমস/৫অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অসহায় শিশু ফারদিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯০২
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বন্ধ ৫০০ স্কুল
সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বি. চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রীনগরে দোয়া ও আলোচনা সভা