সাতক্ষীরা উপকূলে চিংড়ি হ্যাচারিতে বসছে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৪
অ- অ+

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদ‌নে বস‌ছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প‌্যা‌নেল। স্থানীয় বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওশান হ্যাচারিতে বাস্তবায়ন করা হ‌বে এই প্রকল্প।

এই প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন কর‌বে সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্প সং‌শ্লিষ্ট‌দের এক‌টি প্রতি‌নি‌ধি দল প্রকল্প এলাকা প‌রিদর্শন ক‌রেন।

এই প্রতি‌নি‌ধি দ‌লে ছি‌লেন চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন, সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

এসময় সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম বলেন, বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এই প্রথম। এখানে এমন একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি হ্যাচারির জন্যও একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

হ্যাচারি মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, আমরা এখানে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করছি। এতে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি।

এই প্রকল্পে আমাদের প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংকগুলো রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে সেই কাজ সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ওই বিদ্যুৎ কিনবে।

ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকবে। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

(ঢাকা টাইমস/৭অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু
হাজীগঞ্জে মন্দির হামলা মামলায় ৫২ জন খালাস, একজনের কারাদণ্ড
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলার
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে আনসার-ভিডিপির আগাম প্রস্তুতি