জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত  খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৬
অ- অ+

উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬। খুলনা বিভাগের ৩৩টি কলেজ থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১২৬ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৮২ জন ছাত্র ও ৩৪৪ জন ছাত্রী।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তর আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৬৬টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে খুলনার সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের মাঠে বেলুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।

প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা ও কার্যক্রম দিয়ে বর্তমান বিশ্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে নিজেদের জায়গা করে নেবে এবং দেশকে এগিয়ে নেবে। দেশব্যাপী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার এই আয়োজন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হুইপ বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। মাঠে নিয়ম মেনে খেলা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার অভ্যাস জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একজন তরুণকে দায়িত্বশীল করে তোলে। বর্তমান সময়ে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করা এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আনন্দের সঙ্গে শেখার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।

জেলা পর্যায় পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে আসা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, শুধু পদক জেতাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; ভালো ক্রীড়াবিদ হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

বিএল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ও ক্যারিয়ার ক্লাব গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক পড়াশোনার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, এক্সিকিউটিভ এমবিএ ও বিবিএসহ বৈশ্বিক চাহিদাসম্পন্ন নতুন নতুন প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি এসব বিষয়ে নতুন প্রোগ্রামের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার না হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠিত ও মানসম্মত করে তোলাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোকে আরও সবুজ ও প্রাণবন্ত করার কাজ চলছে।

উদ্বোধন ঘিরে সকাল থেকেই সরকারি বিএল কলেজ মাঠে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়, আর দর্শকদের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার উচ্ছ্বাস। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আগামী ১০ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান, উপাধ্যক্ষ এফ এম আবদুর রাজ্জাকসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকা টাইমস/৮অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ডিএমপির ৮ পরিদর্শককে বদলি, পল্লবী-রূপনগর থানায় নতুন ওসি
শ্রীপুরে এক রাতে তিন বাড়িতে চার গরু চুরি
নড়াইল জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুম গ্রেপ্তার
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৩৫