রেজুখালের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রেজুখালের অব্যাহত ভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ, বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে রেজুখালের ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি খালের তীর রক্ষায় টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কা-
দীর্ঘদিন ধরে রেজুখালের ভাঙনে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ বসতভিটা, ফসলি জমি ও মূল্যবান সম্পদ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটার প্রবল স্রোতে খালের তীরের মাটি ক্ষয়ে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ভাঙন প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সরকার পরিবর্তন হলেও ভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটেনি। তাই বিচ্ছিন্ন ও সাময়িক সংস্কারকাজের পরিবর্তে পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা জরুরি-
রেজুখালের ভাঙন রোধে শুধু বাঁধ নির্মাণই যথেষ্ট নয়; খালের পানিপ্রবাহ, তীরের মাটির প্রকৃতি, পলি জমার ধরন এবং মোহনার গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও পানির স্রোত বিশ্লেষণ করে কোথায় তীর সংরক্ষণ, কোথায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং কোথায় খনন প্রয়োজন, তা কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের রেজুখাল বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। পূর্বাঞ্চলীয় উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এ খালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বর্ষায় পাহাড়ি ঢল এবং মোহনায় জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পানির স্রোত ও পলি পরিবহনে পরিবর্তন ঘটে। ফলে অপরিকল্পিতভাবে কোনো স্থানে বাঁধ নির্মাণ করলে অন্য অংশে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও সমীক্ষায় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের প্রত্যাশা এলাকাবাসীর-
পরিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ তীর চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, রেজুখালের ভাঙন রোধে পরিবেশবান্ধব, বিজ্ঞানসম্মত ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে যেমন মানুষের জানমাল, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এখন তাঁদের প্রত্যাশা, সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ যেন কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেজুখালের ভাঙনকবলিত জনপদে স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
(ঢাকা টাইমস/৯অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











