বগুড়ায় সাঁওতাল যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বগুড়ায় রিপন মুর্মু নামে এক সাঁওতাল যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকায় ডিউক নামের এক ব্যক্তির ইটভাটা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার চুরির অপবাদে সালিশের সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে রাতে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
নিহত রিপন মুর্মু দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলোয়া বামুনপাড়া গ্রামের মোসেস মুর্মুর ছেলে। তিনি ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ডিউকের ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন রিপনকে মারধর করেন। পরে রাতে তাকে ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন যে ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতেন, সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি ঝালাই মেশিন চুরি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার মেশিনের মালিক রেজাউল করিম ও স্থানীয় এক সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে সেলিম রিপনকে নিয়ে সালিশ বসান। সালিশের সময় তাকে মারধর করা হয়। এ সময় কালু নামে এক ব্যক্তিকে চুরির সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং চুরি হওয়া মেশিন উদ্ধারের দায়িত্ব রিপনকে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়।
মারধরের পর রিপন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর রেজাউল ও সেলিম একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শুক্রবার রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠান বলে জানা গেছে। তবে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে অ্যাম্বুলেন্সচালক সেটি নিয়ে আবার বগুড়ায় ফিরে আসেন।
অ্যাম্বুলেন্সচালক সিয়াম আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে আবু তালহা সেলিম তাকে ডাকেন। তাঁরা রিপনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিনাজপুরে তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে কেউ মরদেহ গ্রহণ না করায় তিন ঘণ্টা পর তিনি সেটি নিয়ে চানপাড়ায় ইটভাটার সামনে ফিরে আসেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, রাতে রিপনের মরদেহ বাড়িতে আনার খবর পেয়ে তিনি তাদের বাড়িতে যান। পরে বিষয়টি নিয়ে বগুড়ায় রিপনের কর্মস্থলের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়ার পর বগুড়া ও ঘোড়াঘাটের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ও রিপনের বাবা ইটভাটায় আসেন।
রিপনের বাবা মোসেস মুর্মু বলেন, শুক্রবার সকালে ঝালাই মেশিন চুরির অভিযোগে সালিশ বসিয়ে তার ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ছেলের মরদেহ বাড়িতে পাঠানো হয়। তিনি ছেলের চোখে, হাতে ও কোমরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(ঢাকা টাইমস/১০অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









