উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাঝে এআই দিয়ে গাসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী গাজীপুরকে পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রেক্ষাপটে গাসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের পেশাগত দায়িত্ব, প্রকল্প তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে তাঁর কর্মদক্ষতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগও উঠেছে।
নগরীর টেকসই উন্নয়নে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, ড্রেনেজ অবকাঠামো এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার আধুনিকায়ন জরুরি। এসব উন্নয়নকাজে প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা উন্নয়ন প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক।
এদিকে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে ঘিরে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ছবি বিকৃত করে প্রচারের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে ছবিগুলো তৈরি বা প্রচার করা হয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ছবি ও ভিডিও তৈরি কিংবা সম্পাদনা করা সহজ হয়ে উঠেছে। এ প্রযুক্তির অপব্যবহারে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা তথ্য দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে না নিয়ে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করা জরুরি।২০০৬ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ধাপে ধাপে পদোন্নতির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন তিনি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে যোগ দিয়ে স্বচ্ছতা, কঠোরতা ও নীতিনিষ্ঠ কাজের মাধ্যমে প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন।
সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, সুদীপ বসাক সবসময় নীতিমালা মেনে কাজ করেছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ দেননি। তাঁর মতো সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সম্পদস্বরূপ। নতুন এই দায়িত্ব তাঁর পেশাগত জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












