‘বিএসটিআইয়ের লোগো দেখেই নয়, কিউআর কোড যাচাই করে পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে’

পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো থাকলেই সেটিকে মানসম্মত মনে করা যাবে না। কেনার আগে কিউআর কোড যাচাই করে পণ্যটির অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে হবে। ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পণ্যের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে এসব কথা বলেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আক্তার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), কুমিল্লা যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।
জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, অনেক সময় অনুমোদন ছাড়াই পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হয়। এ কারণে শুধু লোগো দেখে পণ্যের মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কিউআর কোড যাচাইয়ের মাধ্যমে পণ্যটির অনুমোদন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা সচেতনভাবে নিরাপদ পণ্য বেছে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুধু ভোক্তার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শিল্প, কৃষি, খাদ্য ও সেবাসহ প্রতিটি খাতে পণ্যের মান বজায় রাখা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা বাড়বে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে সরবরাহ করা পানির মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআই, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অনিরাপদ ও মানহীন পণ্য উৎপাদন কিংবা বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওজনে কম দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা থাকতে হবে। ডিজিটাল ওজনযন্ত্র ব্যবহার করেও কারসাজির মাধ্যমে ভোক্তাদের ঠকানো সম্ভব। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একজন ব্যবসায়ী নিজে যে পণ্য খেতে বা ব্যবহার করতে চান না, সেই পণ্য অন্যের কাছে বিক্রি করা অনৈতিক।
কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রোজী আক্তার বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষির প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। খাদ্য শুধু পুষ্টিকর হলেই চলবে না, তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কৃষক, উৎপাদক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পণ্যের মান, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোক্তারা সচেতন হলে মানহীন পণ্য বাজারজাত করার প্রবণতা কমবে এবং ব্যবসায়ীদেরও পণ্যের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনা সহজ হবে।
এসময়, সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, কুমিল্লার উপপরিচালক (রসায়ন) ও অফিসপ্রধান পরিতোষ চন্দ্র তালুকদার।
(ঢাকা টাইমস/১৪অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










