শ্রীপুরে মাদরাসাছাত্রীকে আখক্ষেতে ধর্ষণের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আখক্ষেতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই ছাত্রীর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমা গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
রাস্তা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী তাঁর প্রবাসফেরত ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে বরমা গ্রামে এসেছিলেন। ঘটনার দিন রাস্তায় চলাচলের সময় শফিকুল ইসলাম তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পাশের একটি আখক্ষেতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর তাঁর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে মিলেছে স্মার্টওয়াচ
ঘটনাস্থলে কালো স্ট্র্যাপের একটি স্মার্টওয়াচ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘড়িটি উদ্ধার করা হয়। ঘড়িটি অভিযুক্তের কি না এবং ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।
ঢাকার হাসপাতালে শিক্ষার্থী
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ
বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। এ সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যা বলছে পুলিশ
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
(ঢাকা টাইমস/২২অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











