প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন, সাধারণ মানুষকেও মানতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ডিজিটাল উদ্যোগ জোরদার করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ—ডিএমপি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে ট্রাফিক সিগন্যাল মানার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলেন। তাই সাধারণ মানুষকেও সিগন্যাল মানতে হবে। লাল বাতি অতিক্রম করা যাবে না।'
বুধবার দুপুরে ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নয়টি সফটওয়্যার সিস্টেম ও অনলাইন প্লাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। উপস্থিত ছিলেন— ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এস এন নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মাসুদ করিমসহ পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
ডিএমপি কমিশনার তার বক্তব্যে জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এই ইউনিটের মাধ্যমে সড়কে আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ ও মামলা করা হবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। মোট ২৩টি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল স্থাপন করেছে, আরও ছয়টি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই চালু হবে। ডিএমপি নিজ উদ্যোগে প্রায় ১০টি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করেছে। এসব ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে উন্নতমানের পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে।
সরওয়ার বলেন, 'কেউ যদি লাল বাতি অতিক্রম করে, উল্টো পথে চলে, ক্রসিংয়ে বাধা সৃষ্টি করে বা লেন ব্লক করে—তাহলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।'
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক বিভাগে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। ভবিষ্যতে সড়কে সার্জেন্ট বা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দাঁড়িয়ে মামলা করার প্রবণতা কমে আসবে, বেশিরভাগ মামলাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া ডিএমপির অন্যান্য কার্যক্রমেও ডিজিটাল প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। টহল গাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনে ভেহিকেল ট্র্যাকিং বা লোকেশন সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কখন কোন গাড়ি কোথায় যাচ্ছে তা মনিটর করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রশাসনিক কাজেও ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। সরকারি ‘ই-নথি’ সিস্টেমের মাধ্যমে ডিএমপির ডাক, ফাইল ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটুআই প্রকল্পের আওতায় তৈরি এই সিস্টেম ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পুলিশ বিভাগেও তা চালু হয়েছে। এ ছাড়া রেশন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যার ব্যবহার, এবং আগে হাতে লেখা হতো এমন ‘কমান্ড সার্টিফিকেট’ এখন ডিজিটালভাবে ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









