আমদানি কমে যাওয়ায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছাড়ালো ২ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২| আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪
অ- অ+

আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে খুচরা বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামের তুলনায় বর্তমানে বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারে এর দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে অন্য পথে আমদানি করা সম্ভব হতো।

তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণের সূত্রে পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের দাবি, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি বিইআরসির নির্ধারিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি আমদানি ও পরিবহন ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায়ে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছায় সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির সংকট অব্যাহত থাকার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৮ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পাতায়া আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন একদল বাংলাদেশি রানার
পূবাইলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ধস
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসানকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কে মিলল মরদেহ