বিশ্রাম নেয়ারও একটা নিরাপদ স্থান নেই এই শহরে!

আপনারা নিশ্চই দেশের অন্যতম অভিজাত/এলিট শ্রেণীর কেন্দ্রস্থল 'গুলশান ক্লাব' এর বোর্ড সদস্য, মেহেদি মালেক সজীব'কে ভুলে যাননি। বন্ধু মহলে সাবেক স্পীকার মালেক উকিলের দৌহিত্র হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি গত ৩০ মার্চ, ২০২৫, রাত ১১.৩০ মিনিটে, বনানীর ১২ নম্বর সড়কে MAX Secure Limited এর নিরাপত্তা প্রহরী; দ্বীন মোহাম্মদকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর অনেক লিখালিখির পর তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কয়েকদিন জেলে কাটিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে, গাড়ি চাপায় নিহত দ্বীন মোহাম্মদের পরিবারের সাথে একটা দফারফা করেন তিনি — ফলে মামলা, কারাবরণ ইত্যাদি থেকে রেহাই পেয়ে যান।
মেহেদি মালেকের জীবন থেমে থাকেনি, দেশের বিত্তবানদের এই ক্লাবে তিনি এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন, কোন বিকারই নেই যে একটা জ্বলজ্যান্ত মানুষকে তার মাতাল অবস্থার খেসারত হিসেবে জীবন দিতে হয়েছে।
ঠিক একই রকমের একটি ঘটনা ঘটেছে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেলে, রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারার ডিপ্লোম্যটিক জোনে, কাজের ফাঁকে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন একজন শ্রমিক, কিন্তু এলিট শ্রেণীর এক কিশোরের বেপরোয়া গতির গাড়ি হঠাৎ তাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে — যেন বিশ্রাম নেয়ারও একটা নিরাপদ স্থান নেই এই শহরে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে, ২৪ বছর বয়সী নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান, কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে এভাবেই প্রাণ হারান।
এর পরে কি ঘটতে পারে সেটা বুঝতে বেশি বেগ পেতে হয়না, পুলিশ হয়তো সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম নেয়া এই ছেলেকে খুঁজে পাবে, ধরে নিয়ে জেলে ঢুকাবে ২-৩ দিনের জন্যে, বেশ আরামের সাথে জামিন পেয়ে বের হয়ে লাখ খানেক টাকায় পুরো ঘটনাই ডিসমিস হয়ে যাবে।
ঘটনাটা একটু রিভার্স করুন তো? যদি একজন সাধারন ব্যক্তির খামখেয়ালির শিকার হতেন কোন এলিট শ্রেণীর কেউ তাহলে কি হতো? ধরুন আপনার গুলশান ক্লাবের একজন সদস্য বা উচ্চ পদস্থ সরকারী চাকুরে মাতা/পিতার প্রিয় সন্তান কোন নিরাপত্তা প্রহরী বা শ্রমিকের গাড়ির নীচে চাপা পড়ে এভাবে মারা যেতো তখন কি ঘটতো?
নাহ আমি হোয়াটএবাউটিজমের দিকে যাচ্ছিনা, আমি আপনাদের চোখে আংগুল দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করছি আমাদের সমাজের এই বর্বরতাকে, অসামঞ্জস্যতাকে আর দূর্বল আইনের শাসনকে।
আচ্ছা যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এধরনের হত্যাকারীদের সাথে সোশালাইজ করেন তখন খারাপ লাগেনা? নিজেকে একটা লো-লাইফ ক্রিয়েচার বলে মনে হয়না?লেখক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













