রাজনৈতিক পেশিশক্তি ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: জমি দখল ঠেকাতে সরকারেরই গ্রিপ শক্ত করতে হবে

সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠী মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে। পেছনে ছিল একটাই শক্তি, রাজনৈতিক পেশিশক্তি। উদ্দেশ্যও একটাই, জমি দখল। আর অত্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব জেনেও নিষ্ক্রিয় ছিল।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও একই দৃশ্য দেখা গেল। এবার সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর নিশানা ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কারণ সেই একই, জমি দখল।
প্রশ্ন হলো, এবারও কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল, নাকি তৎপর হওয়ার সদিচ্ছাই ছিল না?
লাগামহীন রাজনৈতিক পেশিশক্তিকে থামানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভঙ্গুর ভূমিকা মেরামত করা, দুটোর চাবিই রয়েছে সরকারের হাতে।
মিরপুরের ঘটনায় যারা সশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই সরকারদলের বিভিন্ন পুরোনো কমিটির লোক। তারা একসময় দলীয় পদে ছিল, এখন নামের আগে "সাবেক" জুড়ে এলাকায় দাপট দেখায়।
দেশজুড়ে সরকারদল বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর কোনোটিরই কার্যকর কমিটি কিংবা শৃঙ্খলিত সাংগঠনিক কাঠামো নেই। এর মধ্যে আছে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দল ইত্যাদি। ফলে একই এলাকায় একটি সংগঠন তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে অপারেট করে। যার পদ আছে সেও স্থানীয় নেতা, যার পদ নেই তিনিও নেতা। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করে না। বরং এলাকার প্রতিটি কাজ নিজের কব্জায় নিতে সবাই মুখিয়ে থাকে। কমিটি নেই, নিয়মিত কার্যক্রম নেই, তাই কেন্দ্রের হাতেও এদের লাগাম নেই।
সরকারদলের কাছে প্রশ্ন: এই সুযোগ আপনারা কেন করে দিচ্ছেন? কেন এদের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট কমিটির আওতায় আনছেন না?
সব অঙ্গসংগঠনে কমিটি দিয়ে এদের দলীয় কাঠামোর অধীনে আনুন। স্পষ্ট বার্তা দিন যে রাজনীতির বাইরে কোনো অপকর্মে জড়ালে আজীবনের জন্য পদ ও সদস্যপদ হারাতে হবে। একেকটি পদের পেছনে ২০ জনের বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। একজনকে বাদ দিলে বিকল্পের অভাব হবে না। পদ-বাণিজ্য ও কমিটি ঘিরে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করুন।
উপরোক্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে সব মোটামুটিভাবে গোছাতে পারলে দ্বিতীয় ধাপে পুলিশের কাজও সহজ হবে। এক এলাকায় তিন-চারটি গ্রুপ সক্রিয় থাকলে থানার পুলিশ দ্বিধায় পড়ে। 'ক'-এর কথা শুনলে 'খ' নাখোশ হয়। আবার 'খ' বা 'গ'-এর কথা শুনলে 'ক' নাখোশ হয়। সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরাগভাজন হওয়া এই বেচারা পুলিশ সদস্যদের জন্যে কিছুটা হলেও ম্যাটার করে। তবে তাদের এই অবস্থা খেকে মুক্তি দেয়ার চাবিটাও রয়েছে সরকারের হাতে।
আপনি সরকার দল, নিয়ম করে দেন — স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যতিত আর কোন নেতাই সংশ্লিষ্ট থানা বা স্টেশনের পুলিশ সদস্যের সাথে যোগাযোগ করবে না এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোন সংসদ সদস্য বা নেতার অনুমতি নেয়ার দরকার নেই। পুলিশকে তার কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা দিন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন সমাজ ব্যবস্থায় রাতের আঁধারে জমি দখল হয়না, লুট-তরাজ বা ত্রাসের সৃষ্টি হয়না। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
বর্তমানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে তা যথাযথভাবে নিজ গ্রিপে আনার সক্ষমতাও রয়েছে সরকার দলের হাতে, এখনো গ্রিপ থেকে বেরিয়ে যায়নি। গ্রিপে আনুন, আনতে সর্বোচ্চ সদিচ্ছা প্রদর্শন করুন।
লেখক: প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













