গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত করার উদ্যোগ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।
সোমবার গাজীপুর নগর ভবনের সভাকক্ষে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প) আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সব কার্যালয়ে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে অনেক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।
গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে জেবা আফরোজা বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন।
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। পরোক্ষ ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
জেবা আফরোজার ভাষ্য, তামাক ব্যবহারজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মিজ তানজিলা খানম। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
সভায় ডর্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সব কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ডর্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











