রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৫
অ- অ+

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি দাখিল করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের বিষয়ে

রিটে বলা হয়েছে, যেসব বার বা অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা অন্য কোনো আইনগত দলিলে নির্দিষ্ট বন্ধের সময় রয়েছে, সেই সময় কঠোর ও অভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

একই সঙ্গে, দেশে সব বারের জন্য বর্তমানে কোনো অভিন্ন জাতীয় বন্ধের সময় না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধ এবং অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধ করার একটি অভিন্ন নীতি চালু করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা, বিবেচনা ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাত ১১টা বর্তমানে সারা দেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বন্ধের সময়– এমন দাবি করা হয়নি। বরং যেখানে ১১টা বা অন্য কোনো সময় বৈধভাবে নির্ধারিত আছে, তা বাস্তবায়ন এবং যেখানে অভিন্ন সময় নেই সেখানে ১১টার নীতি প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু বার, ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া মদ বিক্রি ও পরিবেশন, লাইসেন্সের শর্তের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় কনজাম্পশন পারমিট না থাকা ব্যক্তিদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগ আইনসম্মত তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব বা বিনোদনকেন্দ্র পরিচালনার সাধারণ অনুমোদন থাকলেই তা মদ বিক্রি বা পরিবেশনের লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। আইন অনুযায়ী পৃথক অ্যালকোহল লাইসেন্স বা অনুমোদন প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই থাকতে হবে। পাঁচতারকা বা বিলাসবহুল হোটেলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের আবেদন

রিটে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা, অবৈধভাবে আমদানি করা, অঘোষিত বা শুল্ক পরিশোধ না করা অ্যালকোহল সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ তদন্তে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ বা যুক্তিসঙ্গত কারণ পাওয়া গেলে আমদানির কাগজপত্র, ক্রয় চালান, কাস্টমস ডিক্লারেশন, শুল্ক পরিশোধের নথি, স্টক রেজিস্টার, ব্র্যান্ড নিবন্ধন, রিলিজ অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।

তদন্তে কোনো মদ আইন অনুযায়ী অবৈধ বা জব্দযোগ্য প্রমাণিত হলে কেবল ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা জব্দ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অগ্রাধিকার

রিটে গুলশান, বনানী ও উত্তরায় অবস্থিত অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় লাইসেন্সের বৈধতা ও নবায়ন, অনুমোদিত স্থান, কার্যক্রমের সীমা, কোটা বা অনুমোদিত পরিমাণ, পরিচালনার শর্ত এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বিষয় যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজধানীর বাইরে সারা দেশেও একই ধরনের আইনসম্মত নজরদারি ও প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ডিজে অনুষ্ঠান নিয়েও নির্দেশনা চাওয়া কিছু হোটেল, ক্লাব, বার ও বিনোদনকেন্দ্রে অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রিটে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে রিটে বলা হয়েছে, শুধু সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, অনুমতি, জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধান বা দণ্ডবিধির কোনো বিধান বাস্তবে লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের আবেদন

অবৈধ মদ ব্যবসা, চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমসের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংস্থা সমন্বয় গড়ে তোলার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রতিটি সংস্থা তাদের নিজ নিজ আইনগত এখতিয়ারের মধ্যেই ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো সংস্থাকে আদালতের মাধ্যমে নতুন বা অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার আবেদন করা হয়নি।

আদালতের কাছে আরও যেসব নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে

রিটে বৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর হালনাগাদ সরকারি রেকর্ড প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন, আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ফৌজদারি তদন্ত ও মামলা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ জনগণ যেন অবৈধ বার, পারমিট ছাড়া মদ বিক্রি, চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বা শক্তিশালী করার আবেদন করা হয়েছে।

কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট

রিট আবেদনকারী আদালতের কাছে আরও প্রার্থনা করেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হোক।

ওই প্রতিবেদনে কতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কতটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হয়েছে, কতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কত পরিমাণ মদ আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে, চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকির কতটি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে এবং কতটি মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে– এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন রয়েছে।

অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে

রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও উত্তরায় বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো আইনসম্মত ভিত্তি পাওয়া গেলে সন্দেহভাজন অনুমোদনহীন অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন চালানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।পরিদর্শনে চলমান কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনও রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শাহপরীতে দেড় কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ
সিরাজদিখানে ভগ্নীপতি ও শ্যালকের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩
মেধার মূল্যায়ন না হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে: রাকসু ভিপি
বগুড়ায় চোরাই ৯৪ স্মার্টফোনসহ গ্রেপ্তার ৮