ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষক্রিয়ায় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানো চার যুবকের মৃত্যুতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গ্রামজুড়ে।
নিহতরা হলেন গলানিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান (১৮), নান্নু মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩৫), মোশারফ হোসেনের ছেলে ইমান হোসেন (৩৫) এবং পাশের ধরন্তি গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে আরমান (২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গলানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী মিয়ার বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নামেন হৃদয় ও মেহেদী। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা উঠে না আসায় সন্দেহ হলে আরমান ও ইমাম তাদের খোঁজে সেপটিক ট্যাংকে নামেন। পরে চারজনই বিষক্রিয়ায় মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে বিকেল সাড়ে ৫টায় সেপটিক ট্যাংক থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ বা স্বজনদের খবর দেওয়া হয়নি। সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলে হয়তো প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতো। এছাড়া ঘটনার পর থেকেই ভবনের মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে কাজ করছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












