প্যারিসে বাংলাদেশিদের ৮ প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুট, নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩
অ- অ+

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ ও নৈরাজ্যের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধ রাখা কিংবা ব্যক্তিগত পাহারার ব্যবস্থা করেও প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা যায়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে বারবার ফোন করেও পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। এসব প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবাও দেওয়া হতো।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোকানগুলোতে থাকা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্য ছিল। দোকান বন্ধ থাকা অবস্থায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র সেখানে লুটপাট চালায়।

রবিউল হাসান বলেন, ‘আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংঘবদ্ধ চক্র দোকানে লুটপাট চালায়। এখন আমার উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই।’

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের মালিকানাধীন ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম—দুটি প্রতিষ্ঠানেই লুটপাট চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, দুই দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো।

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে প্যারিসের বুকে এমন নৈরাজ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। নৈরাজ্যের সঙ্গে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জড়িত থাকার অভিযোগ ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আমাদের আশঙ্কা, আজকের এই ভয়াবহ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আগামী দিনে ফ্রান্সের অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিকে প্রবলভাবে শক্তিশালী করতে পারে।’

তবে বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একাধিক দোকানে লুটপাটের ঘটনায় প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্যারিসের মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দোকান বন্ধ রেখেও যদি প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখা না যায়, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগ ও জীবিকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানে মূল্যবান পণ্য ও নগদ অর্থ থাকায় লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণও বেশি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।

বিক্ষোভের বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

(ঢাকাটাইমস/১৮ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ভারতে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় নিহত ১২, আহত ৩০
দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯০, মামলা ৪২
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ১২০০