ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৭ হাজার ৬২১, নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা

ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৬২১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ২৫২। সে হিসাবে এক বছরে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৩৬৯টি। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর, মণ্ডপে হামলা, গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে রেঞ্জ পুলিশ।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং ও টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
রেঞ্জ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ হাজার ৩৯৯টি পূজামণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২ হাজার ৪৪০টিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩ হাজার ৭৮২টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা, উগ্রবাদী তৎপরতা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজামণ্ডপে হামলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপে আসা নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্ত করা এবং মাদকের বিস্তার রোধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতিটি মণ্ডপকেন্দ্রিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এসব কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে তদারক করা হবে।
একইসঙ্গে প্রতিমা তৈরি ও স্থাপনের সময় থেকে শুরু করে পূজা উদ্যাপন এবং বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের নির্ধারিত পথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে জেলা ও থানা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সাইবার টিম ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার টহল জোরদার করা হয়েছে। গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সড়কে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধেও নজর দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূজা উপলক্ষে অনুমোদিত মেলা বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে জুয়া কিংবা হাউজি বসানো যাবে না। এসব আয়োজনে মাদক সেবন ও কেনাবেচা বন্ধেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার মানুষের সার্বজনীন মিলনমেলা। ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, গুজবে কান না দেওয়া এবং যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













