দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে বান্দরবান, গুজব-উসকানি ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল দেবেন। এ ছাড়া ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন, বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার এবং ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য বিজিবি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে।
এই পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি ঠেকানোর বিষয়েও সতর্ক নজরদারি রাখা হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বিজিবির।
বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তর এবং এর অধীন তিনটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এবার নয়টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ব্যাটালিয়ন তিনটি হলো রুমা ব্যাটালিয়ন (৯ বিজিবি), বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) ও আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বাহিনীটি। গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দায়িত্ব চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে বান্দরবান সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত দলের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপে টহলের সময় বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বান্দরবান জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতেও প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে বলা হয়, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া এবং যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল ও বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন একাধিক পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা পূজা কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। পূজার নিরাপত্তায় বিজিবি তাদের পাশে রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন।
কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তোলা সম্ভব। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সবাইকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাও জানান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











