উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০০
অ- অ+

রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙচুর করা হয়।

জানা গেছে, এদিন সকাল থেকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা উত্তরার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে তারা কসাইবাড়ি, জামতলা ও আজমপুর রেলগেট এবং জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড় এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কসংলগ্ন রাজলক্ষ্মী এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।

ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা বলেন, শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের সময় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙচুর করেন আন্দোলনকারীরা। গাড়িটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদর দপ্তরের বলে জানা গেছে।

উত্তরা বিভাগের ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক পরিদর্শক জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদর দপ্তরে কর্মরত এক সদস্য মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে পড়েন। পরে ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের একটি এটিএম বুথের সামনে তাকে মারধর করা হয়। তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষের পর পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে আজমপুর ও কসাইবাড়ি রেলগেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় রেললাইন থেকে পাথর ও আশপাশ থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে শ্রমিকদের পাল্টা ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটে।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, বর্তমান বেতনে তাদের পক্ষে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, যাতায়াত খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী বেতন বাড়েনি। ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। এ কারণে তারা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অবরোধের আগেই পুলিশ তাদের ওপর লাঠিপেটা করে। পরে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়। এতে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও এক সদস্যকে মারধরের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সতর্ক করার পরও চালু ছিল টুপটুপ রিসোর্ট: ফায়ার সার্ভিসের ডিজি
শৈলকুপায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত 
সফিপুরে আনসার একাডেমিতে সিমুলেটর ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করলেন মহাপরিচালক
গাজীপুরে ইবনে সিনার ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন