জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক কূটকৌশলের সুযোগ নেই: সাইফুল হক

জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক কূটকৌশলের কোনো সুযোগ নেই। এই অঙ্গীকার থেকে পিছিয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।
শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিপ্লবী যুব সংহতি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো বিপ্লবী চার্টার নয়, সংবিধান বা রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দলিলও নয়। বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতেই সংস্কারের আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দুই বছর দেশ ও সরকার এই সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিহীন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা হয়েছে।
জুলাই সনদ স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, এই সনদ দেশে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।
সাইফুল হক বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন হতে পারত।
তিনি বলেন, সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি তার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে। বিএনপি কেন এই সুযোগ নেয়নি, তার যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না বা মৌলিক সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এ কারণে সনদ বাস্তবায়নে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সাইফুল হক আরও বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কমিটি গঠন করে বিএনপি এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে কাজ করছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। সংসদে ২৪৮ জন সদস্য নিয়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির অবস্থানের বাইরে অন্যদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল।
অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
সংসদের বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রতিনিধিত্বকারী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, বিপ্লবী যুব সংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন রহমান, সংগঠনের ঢাকা উত্তরের সদস্যসচিব আহমেদ রনি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













