শ্রীপুর-গড়গড়িয়া সড়ক যেন মরণফাঁদ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৮
অ- অ+

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য খনন করা গর্ত প্রায় এক বছর ধরে খোলা পড়ে রয়েছে। গর্তের একাংশে ভেঙে পড়েছে পাকা সড়ক। আশপাশে ছড়িয়ে আছে মাটি ও কংক্রিটের ভাঙা টুকরা। দীর্ঘদিনেও গর্তটি সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী পোশাকশ্রমিক, স্কুলশিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বা চুঙ্গি বসানোর কাজ করতে গিয়ে সড়কের পাশের একটি অংশ খনন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গর্তটি যথাযথভাবে ভরাট কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে সড়কের ওই অংশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে খনন করা গর্তে পাকা রাস্তার ভাঙা অংশ ও কংক্রিটের বড় বড় খণ্ড পড়ে রয়েছে। গর্তের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী কিংবা সতর্কতামূলক চিহ্নও চোখে পড়ে না। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় গর্তটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অসতর্কতায় পথচারী কিংবা যানবাহন গর্তের কাছে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সড়কের কাছেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় এ পথ দিয়ে। পাশাপাশি এলাকার অসংখ্য পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষও দৈনন্দিন প্রয়োজনে সড়কটি ব্যবহার করেন। ঝুঁকিপূর্ণ গর্তের কারণে তাঁদের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে সাইকেল নিয়ে চলাচল করেন। একদিন যাওয়ার পথে গর্তের কারণে তাঁর সাইকেলের ব্রেক ফেল করে এবং তিনি পড়ে গিয়ে শরীরে ব্যথা পান। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। আমার মতো যে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে স্কুলের ছোট ছোট শিশু ও পোশাকশ্রমিকদের জন্য এটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কেউ গুরুতরভাবে আহত হওয়ার আগেই গর্তটি ভরাট করে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা প্রয়োজন।”

পরিবেশবিদ খোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সড়কটির পাশে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা গর্তটি দেখে আসছেন। তাঁর মতে, এই গর্তের কারণে পোশাকশ্রমিক, সাধারণ পথচারী ও স্কুলশিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, জনসাধারণের চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এভাবে দীর্ঘদিন গর্ত ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন হলেও সেই কাজ করতে গিয়ে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা উচিত নয়। কাজের প্রয়োজনে সড়কের কোনো অংশ খনন করা হলে তা দ্রুত সংস্কার করতে হবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গর্তের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন করাও জরুরি।

খোরশেদ আলমের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি কেন খোলা পড়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, পানি নিষ্কাশনের কাজ করতে গিয়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতের দায়িত্ব কার? কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, নাকি তদারককারী কর্তৃপক্ষ—দায়ভার যাদেরই হোক, জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে না?

তাঁদের দাবি, অবিলম্বে গর্তটি নিরাপদভাবে ভরাট করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার পর নয়, তার আগেই সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

(ঢাকা টাইমস/১৭অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টেকনাফে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২, ইজিবাইক জব্দ
‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’, পুলিশ কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি
পলাতক হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন এটা হাস্যকর কথা: বিমানমন্ত্রী 
ভারত থেকে এলো ১৮টি রেলকোচের প্রথম চালান