গলা টিপে ধরেন, হকিস্টিক দিয়ে পেটান; কলম চলবেই: নূর আহসান মৃদুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১০
অ- অ+

‘গলা টিপে ধরেন, হকিস্টিক দিয়ে পেটান; কলম চলবেই’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের হামলার শিকার সাংবাদিক দ্যা ডেইলি স্টারের রাবি প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, হয়তো আরো হাজার বছর চলবে তদন্ত কমিটির তদন্ত। কিন্তু আমি সিভিয়ার মাসল ইনজুরি নিয়ে আপাতত বিছানায় পড়েই আছি বলা চলে। মন এবং শরীরের এই কষ্ট কমতে সময় লাগবে।

ফেসবুক পোস্টে মৃদুল লেখেন, একটা বীভৎস রাত গেল গতকাল। মূলত গত পরশু রাত থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, গতকাল সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিব পরিবহনে অবস্থান করেন এবং উসকানিমূলক পোস্টও দিতে থাকেন।

তিনি লেখেন, বিকেল ৫টার কিছু পরে আহসান হাবীব তার ছয়-সাতজন নেতাকর্মীকে নিয়ে বেসবলের ব্যাট হাতে পরিবহনে অবস্থান নেন। আমরা ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সকাল থেকেই পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখি। এরপর সন্ধ্যা নাগাদ ছাত্রশিবিরের কিছুসংখ্যক কর্মীকে আমরা পরিবহন মার্কেটে আসতে দেখি। তারাও পরিবহনে অবস্থান নেন। যদিও পরবর্তীতে তারা পরিবহন ত্যাগ করলে আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই।

তিনি আরও লেখেন, পরিবহন মার্কেট থেকে আহসান হাবীব ও তার কর্মীরা এরপর জিয়া হলের দিকে আসেন। এ সময় তাদের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করতে যান সমকালের রাবি প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের আরিফ উজ জামান কোরবান। সেখানে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

মৃদুল লেখেন, এ সময় আমি রাতের খাবার খেয়ে জিয়া হলেই ফিরছিলাম। কোরবান আমাকে কল দিয়ে জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজু ও তার ওপর হামলা করেছে। এ সময় আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে গিয়ে আমি তাদের একটি প্রশ্ন করি। তাদের জিজ্ঞেস করি, ‘কেন তারা সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুললেন?’ এরপর আহসান হাবীব আমাকে গলা চেপে ধরে দরজার সঙ্গে চেপে ধরেন। বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম আমার ওপর প্রথম আঘাত করেন।

তিনি লেখেন, এরপর ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন। পরে আগামীর সময়ের রাবি প্রতিনিধি জাহিদ ঠেকাতে এলে তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।

দোয়া চেয়ে লেখেন, যাই হোক, শত শত মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও দেখেও অনেকে হয়তো দোষীদের শনাক্ত করতে পারবেন না। হয়তো আরও হাজার বছর চলবে তদন্ত কমিটির তদন্ত। কিন্তু আমি সিভিয়ার মাসল ইনজুরি নিয়ে আপাতত বিছানায় পড়ে আছি বলা চলে। মন ও শরীরের এই কষ্ট কমতে সময় লাগবে। এই ১০-১২ ঘণ্টায় অগণিত মানুষ আমার খোঁজ নিয়েছেন। সবাইকে উত্তর দিতে পারিনি। এ জন্য একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা ও দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রচণ্ড ক্লান্তি পুরো শরীরে। সবাই দোয়া করবেন।

মৃদুল আরও লেখেন, দিনশেষে কথা একটাই—কলম চলবে। প্রশ্ন, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে সত্য উদ্ঘাটন চলবেই। সে আপনি নূর আহসান মৃদুলের গলা টিপে ধরেন, হকিস্টিক দিয়ে পেটান বা ট্যাগিং করেন। নূর আহসান মৃদুল চলে গেলেও এই ক্যাম্পাসে এমন শত শত মৃদুল, জাহিদ, কোরবান, রাজু গড়ে তুলছি আমরা। যারা লিখবে। লিখবে ন্যায়, অন্যায়, হাসি, কান্না নিয়ে। লিখবে সত্য নিয়ে।

উল্লেখ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। এতে ৪ জন সাংবাদিক সহ ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারীদের মনে হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রীতি দেখা দিয়েছে: আবু হানিফ 
হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু
বংশালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিশা রানীর আত্মহত্যা, নেপথ্যে কী জানাল পুলিশ
যশোরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১