নিউইয়র্কে পবিত্র কোরআন হাতে মেয়র মামদানির ঐতিহাসিক শপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৩
অ- অ+

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

৩৪ বছর বয়সী মামদানি এর মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই আয়োজনকে শহরের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শপথগ্রহণের জন্য মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন’। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত এই স্থানটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও অবদানের প্রতীক বলে জানান তার ট্রানজিশন টিমের সদস্যরা।

মধ্যরাতের এই আনুষ্ঠানিকতার পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে আরও একটি বৃহৎ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাকে পুনরায় শপথ পড়াবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির।

উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ২০১৮ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বাস সার্ভিস চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ, আবাসন সংকট এবং সাবওয়ে ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধান—সবকিছুই তার প্রশাসনিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সেদিকে শুধু নিউইয়র্কবাসী নয়, বরং গোটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনই গভীর নজরে তাকিয়ে আছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শহরের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয়ের পথে হাঁটতে পারেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

(ঢাকাটাইমস/০১ জানুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাতক্ষীরায় নিখোঁজ স্কুল শিক্ষার্থীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, গণপিটুনিকে নারী নিহত
ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার রিফাত শামীম বরখাস্ত
আমরা একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো: প্রধানমন্ত্রী
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা