৩ হাজার টাকার ‘ফ্রি শপিং’ অফার ঘিরে পল্লবীতে তুলকালাম, বন্ধ হলো আউটলেট

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭
অ- অ+

রাজধানীর পল্লবীতে একটি লাইফস্টাইল পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ‘ফ্রি শপিং’ অফারের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পল্লবীতে ‘লাইভ শপিং ফ্যাক্টরি আউটলেট’ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফ্রি শপিংয়ের’ সুযোগ দেওয়ার প্রচার করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।

তবে প্রতিষ্ঠানটির অফারটি সরাসরি বিনামূল্যে পণ্য নেওয়ার সুযোগ ছিল না। শর্ত অনুযায়ী, একজন ক্রেতাকে প্রথমে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকার পণ্য কিনতে হবে। এরপর গোলবারে দুটি শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। দুটি শটের অন্তত একটিতে গোল করতে পারলে ৩ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ গোল করতে পারলে আগে করা ৩ হাজার টাকার কেনাকাটা কার্যত বিনামূল্যে হয়ে যাওয়ার কথা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অফারটি ঘিরে বিক্রয়কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ার পর একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও লাইভ ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা চায়।

বিকেল ৪টার দিকে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে ঢুকে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে। পরে এক লাইভ ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আশিক খান অভিযোগ করেন, ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিক্রয়কেন্দ্রে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

তার দাবি, ঘটনার সময় অনেক মানুষ কেনাকাটা ও অফারে অংশ নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই একটি দল ভেতরে ঢুকে কর্মীদের মারধর করে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে। কয়েকজন গ্রাহকের ব্যাগ চুরি এবং জুতা ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আশিক খান বলেন, “মানুষ কিনতেছিল এবং খেলতেছিল। উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই লোকগুলো ভেতরে ঢুকে মারছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সবকিছু নষ্ট করা হয়েছে।”

ঘটনার সময় সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, প্রতিষ্ঠানটি একটি অফার দিয়েছিল। সেখানে ‘কন্ডিশন অ্যাপ্লাই’ লেখা থাকলেও অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফলে মানুষ হুড়মুড় করে বিক্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রের লোকজনের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়।

পুলিশ গিয়ে লোকজনকে বের করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শুক্রবারের জন্য শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।

তবে লুটপাট বা মারধরের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওসি হাসান বাসির বলেন, “আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। আমরা প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এখনো কোনো অভিযোগ দেননি।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা জানতে আইনগত অভিযোগ প্রয়োজন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একদিকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে; অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি।

ফলে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, কারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল এবং সত্যিই কোনো পণ্য লুট বা কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো মেলেনি।

অফারের প্রচারণায় ‘ফ্রি শপিং’ শব্দ ব্যবহারের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শর্ত থাকলেও অনেকেই তা বুঝতে পারেননি। এতে বিনামূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্রয়কেন্দ্রে ভিড় করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শুক্রবারের জন্য বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির করা অভিযোগের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে।

(ঢাকাটাইমস/১২ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কিডনি রোগীদের জন্য জেলা-উপজেলায় চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস সেবা
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬২৯, মামলা ৫০
AI উন্নয়নের গতি কমানো মানবসভ্যতার নিরাপত্তা নাকি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে বাধা?
২০২৭ সালের ব্রিকস সম্মেলন চীনে