তিন মাসের ব্যবধানে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই কমেছে: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৫| আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৯
অ- অ+

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি ছিনতাই নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার বিকালে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।’

সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তবে বেশির ভাগ নাগরিক জানিয়েছেন, আগের তুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কেনাবেচা কমেছে। ছিনতাইও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত তিন মাসের সঙ্গে তার আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকেরা চান, মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘জনতার প্রতিরোধ কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণ যদি এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ করেন, তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’

মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। এসব তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতেও নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাতে অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে যাকে পাওয়া যাবে, তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে দ্রুত মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান কমিশনার।

ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে কারও ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অস্ত্র প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে সেখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

সভায় এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি, র‍্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সভায় অংশ নেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আত্রাই নদীতে সৌতি জাল দিয়ে বাঁধ, ব্যাহত নৌ চলাচল
শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির শেষকৃত্য সম্পন্ন
তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত
সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এগিয়ে আসতে হবে: হুইপ জি কে গউছ